
আহমেদাবাদ : ১৮ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল প্রথম ট্রফির জন্য। ১৮ বছর ধরে কম গ্লানি, লাঞ্ছনা, অপমান সহ্য করতে হয়নি আরসিবির (Royal Challengers Bengaluru) সমর্থকদের। ৪৯ অল আউটের ‘ট্রোল’ বারবার গায়ে ছোঁড়া হয়েছে তাঁদের। তবে দুটো বছর সব পাল্টে দিল। পরপর দুই বছর আইপিএল চ্যাম্পিয়ন (IPL 2026 Final) হয়ে চেন্নাই-মুম্বইয়ের মতো ‘চ্যাম্পিয়ন’ দলের সঙ্গে একাসনে বসলেন আরসিবি অধিনায়ক রজত পাতিদার (Rajat Patidar)। চেন্নাই (CSK) এই কীর্তি ঘটিয়েছিল ২০১০-১১ সিজনে, মুম্বই (MI) ২০১৯-২০ সিজনে। আরসিবি (RCB) ২০২৫-২৬ সিজনে। তবে এই সাফল্য কিন্তু একদিনে আসেনি। ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে সম্প্রচারকারী সংস্থার সামনে এই কথাই স্বীকার করলেন বিরাট কোহলি।
গতকাল কোহলি বলেন,“আমরা প্রথম থেকেই চেয়েছিলাম লীগ টেবিলে প্রথম দুই স্থানের মধ্যে শেষ করতে। সেটা করতে পেরে ভাল্লাগছে। আবার ফাইনালের ক্ষেত্রেও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আমার স্বপ্ন ছিল যে আমার শটে দলকে জিতে চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে। আমি খুশি, সেই মুহূর্তটা অবশেষে এসেছে। আমাদের দলে যারা রয়েছে, তারা আমাদের যেকোনও পরিস্থিতি পার করার আত্মবিশ্বাস দেয়।”
নিজের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি নিয়েও অকপট বিরাট। বললেন,“আমার প্রথম থেকেই লক্ষ্য ছিল অতিরিক্ত রান তোলার। বিপক্ষ কে, তাই নিয়ে আমরা মাথা ঘামাইনি। আমরা সবাইকে সন্মান করি, কাউকেই যেচে খ্যাপাতে চাই না। আমি জানতাম যে ওরা শুরু থেকেই আমাকে আউট করার চেষ্টা করবে। কিন্তু আমি এটাও জানতাম, যে আমাদের দলটা চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়ে পরিপূর্ন, যারা ৩-৪ ওভার আগেই ম্যাচ ফিনিশ করতে চাইবে। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই আমরা ম্যাচের আংশিক নিজেদের দিকে ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম এবং আমরা সফল, তাই আমি গর্বিত।”
ম্যাচের পরেও কোহলি স্তুতি সবার মুখে। ৩৮ বছর বয়স হয়ে গেলেও এখনও সেই ১৮ বছরের তরুণের মতো পারফরম্যান্সের খিদে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় তাঁকে। গতকাল ৪২ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত রইলেন তিনি এবং বুঝিয়ে দিলেন, শুধুমাত্র ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটের একটি ফরম্যাট খেলে যাওয়া কোহলি এখনও কেন প্রাসঙ্গিক, এখনও কেন চেজমাস্টার, এখনও কেন ‘কিং’।