
কলকাতা: ক্রিকেট মাঠে তাঁর আগ্রাসী ব্যাটিং, রান তাড়া করার ক্ষমতা নিয়ে সবসময় চর্চা হয় সোশাল মিডিয়াতে।
আজ ৩৮ বছরে পা দিলেন তিনি, বিরাট কোহলি। তবে ক্রিকেটের বাইরে আরও একটি শখ আছে তাঁর, যা হল ট্যাটু। গোটা শরীরে মোট ১৩টি ট্যাটু আছে কোহলির। প্রত্যেকটি ট্যাটুর পিছনে আছে আলাদা অর্থ ও বিশেষ কোনও স্মৃতি। দেখা যাক, কোহলির শরীরে কোনো ট্যাটুর কী অর্থ।
১-জলের ঢেউ: বিরাট কোহলির বাঁ হাতের নিচের দিকে আছে জলের ঢেউয়ের নকশা। গোলাকার এই নকশায় কেন্দ্র থেকে একধিক বাঁকা রেখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। জলে কোনও কিছু পড়লে যেমন ঢেউ তৈরি হয়, অনেকটা তেমন দেখতে এই ট্যাটু।
২- পদ্মফুল: বাঁ হাতের কাঁধ থেকে ট্রাইসেপ্স পর্যন্ত রয়েছে পদ্মফুলের নকশা। ২০২৬ সালের আইপিএল শুরু হওয়ার আগে এই ট্যাটু করেছিলেন তিনি। ট্যাটু ষ্টুডিওর মতে, এই নকশা তাঁর জীবনের পরিবর্তন, কঠোর পরিশ্রম ও নিজেকে গড়ে তোলার প্রতীক।
৩- ভগবান শিব: বাঁ হাতের নিচের অংশে রয়েছে ভগবান শিবের ধ্যানমগ্ন ছবি। কৈলাস পর্বতে ধ্যান করছেন শিব, পিছনে রয়েছে মানস সরোবর। এটি তাঁর ধর্মীয় ভাবনার প্রতীক।
৪- জাপানি সামুরাই: বাঁ হাতের উপরের অংশে রয়েছে জাপানি সামুরাইয়ের ছবি। সামুরাই যোদ্ধাদের জীবনে শৃঙ্খলা, সম্মান, সাহসকে বহন করে এই ট্যাটু।
৫- মেটাট্রনের কিউব: ডান হাতের নিচের অংশে রয়েছে এই নকশা। এটি এক ধরণের জ্যামিতিক নকশা, যার সঙ্গে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের যোগ আছে। এই ট্যাটুটি করার আগে ওখানে ছিল একটি ট্রাইবাল নকশা। পরে সেটির উপরেই নতুন ট্যাটু করিয়েছেন তিনি।
৬- পিওনি ফুল: বাঁ হাতের ট্যাটুর নকশার মধ্যে রয়েছে পিওনি ফুল। এশিয়ার বিভিন্ন সংস্কৃতিকে এই ফুলকে সমৃদ্ধি, সম্মান, সৌভাগ্য ও সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
৭- ঈশ্বরের চোখ: বাঁ কাঁধে জাপানি সামুরাইয়ের ট্যাটুর উপরে রয়েছে একটি চোখের নকশা। একে বলা হয় গডস আই। বিশ্বাস করা হয়, মানুষের প্রতিটি কাজের উপর ঈশ্বরের নজর রয়েছে। নিজের কাজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা এই ট্যাটুর সঙ্গে জড়িত।
৮- বাবা-মায়ের নাম: বিরাটের বাঁ হাতে হিন্দিতে লেখা আছে প্রেম কোহলি ও মা সরোজ কোহলির নাম। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রয়াত হন তাঁর বাবা।
৯- ওডিআই ও টেস্ট ক্যাপ নম্বর: ২০০৮ সালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তাঁর। ভারতের হয়ে ওডিআই খেলা ১৭৫তম ক্রিকেটার ছিলেন তিনি। তাই বাঁ হাতে ১৭৫ নম্বর ট্যাটু করানো কোহলির। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের নামের কাছে নিজের টেস্ট ক্যাপ অর্থাৎ ২৬৯ নম্বর ট্যাটু করা আছে কোহলির।
১০- বৃশ্চিক রাশি: ডান হাতের উপরে আছে বৃশ্চিক রাশির প্রতীক। ১৯৮৮ সালের ৫ নভেম্বর জন্ম বিরাটের। সেই অনুযায়ী, তাঁর রাশি বৃশ্চিক। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই রাশির মানুষের মধ্যে আবেগ, দৃঢ়তা ও জেদ বেশি থাকে।
১১- মঠ: বাঁ হাতের নিচের দিকে রয়েছে একটি মঠের ছবি। মঠ এমন এক জায়গা, যেখানে সন্ন্যাসীরা জীবনযাপন করেন। এই ট্যাটুর মাধ্যমে শান্ত মন, নিরিবিলি পরিবেশ ও কোলাহল থেকে দূরে থাকার ইচ্ছে প্রকাশ পায়।
১২- ওম চিহ্ন- বাঁ কাঁধের কাছে রয়েছে ওম চিহ্ন। ভারতীয় আধ্যাত্মিকতায় ও সংস্কৃতিতে এর বিশেষ গুরুত্ব আছে। এই ট্যাটু বিরাটের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।
সুতরাং, ২২ গজে নিজের আলাদা পরিচিতি বানালেও শরীরের এই ১৩টি ট্যাটুর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়ের গল্প।