
আলিপুরদুয়ার : ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলবদলের পালা অব্যাহত। আলিপুরদুয়ার ফালাকাটা এক নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিল ৫১টি পরিবার। অন্যদিকে, নাগরাকাটায় সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। সেখানে তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ১১ জন। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে এই দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে।
শনিবার আলিপুরদুয়ার ফালাকাটা ১ নম্বর ওয়ার্ডের ২২২ নম্বর বুথে কর্মসূচির আয়োজন করেছিল তৃণমূল। ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সুভাষচন্দ্র রায় ও তৃণমূলের ফালাকাটা টাউন ব্লক সভাপতি রাজু মিশ্র। তাঁদের উপস্থিতিতেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেয় ৫১টি পরিবার। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেয় জেলা নেতৃত্ব। তৃণমূলের দাবি,ফালাকাটার বিধায়ক ৫ বছরে কোনও উন্নয়ন করতে পারেনি। এক নম্বর ওয়ার্ডে কোনও কাজ করেনি। মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পে আস্থা রেখেই পরিবারগুলি তৃণমূলে যোগ দিয়েছে। নির্বাচনের আগে সংগঠন মজবুত করার ক্ষেত্রে এই যোগদান তৃণমূলের পক্ষে ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে,নাগরাকাটায় বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন ১১ জন। সভায় উপস্থিত ছিলেন নাগরাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পুনা ভেংরা, জেলা সভাপতি শ্যামল রায় ও দলীয় নেতৃত্ব। ওই ১১ জন সদস্যের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তাঁরা।
বিজেপি জেলা নেতৃত্বের দাবি, দুর্নীতির সরকারকে উৎখাত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষরা আর চুপ করে বসে থাকবে না। জেগে উঠছে সবাই । সবাই বুঝতে পারছে এই সরকার আর বেশিদিন নেই। পরবর্তী প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য, সমাজের সুরক্ষার জন্য বিজেপি সরকারকে জেতাতে হবে। নির্বাচনের আগে এই যোগদানকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি শক্তি বৃদ্ধি পাবে নাগরাকাটা এলাকায়।