AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Amul Factory in West Bengal: বাংলাকে ‘আমূল’ বদলে দেবে Amul! কীভাবে জানুন?

Amul Investment in Bengal: পালাবদলের পর আমূলের পাশাপাশি লাক্স কোজিও বিনিয়োগ করেছে। হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজির বড়সড় কারখানা তৈরি হবে। পাশাপাশি বাঁকুড়ার মেজিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে।

Amul Factory in West Bengal: বাংলাকে 'আমূল' বদলে দেবে Amul! কীভাবে জানুন?
বাংলায় আমূলের কারখানায় কত কর্মসংস্থান হবে? Image Credit: Chatgpt
| Updated on: Jul 22, 2026 | 5:00 PM
Share

কয়েক মাসেই বদলে গেল বাংলা। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বাংলা দেখছে ফের শিল্পের আলো। যে বাংলা থেকে বিগত কয়েক বছরে সব শিল্প মুখ ফিরিয়েছিল, সেই বাংলাতেই এখন বিনিয়োগের জোয়ার। ইতিমধ্য়েই একাধিক প্রকল্পের ঘোষণাও হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল আমূলের কারখানা (Amul Factory)। হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে তৈরি হচ্ছে ‘আমূলে’র বিশ্বমানের ডেয়ারি প্রকল্প (Dairy Project)। নাম ‘আমূল বাংলা ডেয়ারি’। এই ডেয়ারি প্রকল্পে বাংলার ছবি ঠিক কতটা বদলে যাবে, জানেন?

নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে ভার্চুয়ালি এই মেগা প্রকল্পের ভূমি পুজো অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আমূলের দই উৎপাদন কারখানার শিলান্যাস হল। এখন সাঁকরাইলের ফুড পার্ক চত্বরে সাজো সাজো রব।

কী হবে সেখানে?

রাজ্য সরকার জানিয়েছে, গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত আমূল কোম্পানি প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে হাওড়ার সাঁকরাইলে বিশ্বের সবথেকে বড় দই উৎপাদন কারখানা গড়বে।

সেই গুজরাট। রাজ্যের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার নানা ইস্যুতে গুজরাটের নাম উল্লেখ করে বিঁধেছিলেন। সেই আক্রমণের জবাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘কারা যেন বলতো, বাংলাকে গুজরাট হতে দেব না। তাঁরা আজকে ঘরে বসে টিভিতে দেখছেন, আমূল আজকে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে, পশ্চিবঙ্গের উন্নতির জন্য।’

কারখানার প্ল্যান-

হাওড়ার সাঁকরাইলে আমূলের যে কারখানা তৈরি হচ্ছে, সেখানে দৈনিক প্রায় ১০ লক্ষ কেজির কাছাকাছি দই উৎপাদন করা হবে। এর সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে ৩০ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে। অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যও উৎপাদিত হবে এই কারখানায়।

গোটা প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যের কৃষকরা সরাসরি যুক্ত থাকবে বলেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শ্বেত বিপ্লবের সঙ্গে মিষ্টি বিল্পব শুরু হয়ে যাবে বাংলায়। মিষ্টি দই শুধু পশ্চিমবঙ্গের প্রিয় খাদ্য থাকবে না, সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়বে আমূলের হাত ধরে।

শিল্প মহল কী বলছে?

শিল্প মহলের মতে, হাওড়ার এই মেগা ডেয়ারি প্রকল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড়সড় জোয়ার আনবে। বিপুল পরিমাণ দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের দুগ্ধচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, অন্যদিকে তেমনই এই বিশাল উৎপাদন কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

কত কর্মসংস্থান হবে?

সাঁকরাইলে এই আমূলের কারখানায় দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের দুধ বিক্রির সুযোগ পাবে। পাশাপাশি দক্ষ, আংশিকভাবে দক্ষ এবং অদক্ষ কর্মীদের জন্য অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। কম করে এক থেকে দেড় লক্ষ কর্মসংস্থান হবে। সব মিলিয়ে, বাংলার বুকে এই প্রকল্প দুগ্ধ শিল্পের বিকাশে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

আইসক্রিমও তৈরি হবে বাংলায়?

তবে মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা কিন্তু এখানেই থেমে নেই। দই উৎপাদন কারখানার পাশাপাশি আমূল যাতে রাজ্যে দু’টি আইসক্রিম কারখানা তৈরি করে, তার অনুরোধও করেছেন। উত্তরবঙ্গে একটি ও দক্ষিণবঙ্গে একটি করে আইসক্রিম কারখানা তৈরির প্ল্যান। প্রয়োজনীয় জমি দেবে রাজ্য সরকার।

পালাবদলের পর আমূলের পাশাপাশি লাক্স কোজিও বিনিয়োগ করেছে। হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজির বড়সড় কারখানা তৈরি হবে। পাশাপাশি বাঁকুড়ার মেজিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে। অর্থাৎ বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তা সত্যি হওয়ার পথেই এগোচ্ছে। এখন অপেক্ষা শুধু কারখানার ইট-কাঠ জোড়া লাগার। নতুন চাকরির খবরে বাড়িতে বাড়িতে হাসি ফোটা। বাংলা এখন সেই অপেক্ষাতেই।

Follow Us