Potato Crisis: আর ক’টা দিন গেলেই ঘরে উঠত আলু! অকাল বন্যায় জলের তলায় প্রায় ১০০ বিঘা জমি, চাষিদের পাশে দাঁড়াতে রাতারাতি বড় সিদ্ধান্ত সরকারের
Potato Crisis: বৃষ্টির সঙ্গেই গোঁদের উপর বিষফোঁড়া DVC-র জল! অকাল বন্যায় জলের তলায় ১০০ বিঘা জমি, মাথায় হাত আলু চাষিদের। উদ্বেগ বাঁকুড়ার বিস্তৃর্ণ এলাকায়। অবস্থা দেখে রাতারাতি বড় সিদ্ধান্ত প্রশাসনের।

বাঁকুড়া: একদিকে বৃষ্টি আর অন্যদিকে ডিভিসির ছাড়া জলে অকাল বন্যায় ভাসল বিঘার পর বিঘা আলুর জমি। কোমর জলের নিচ থেকে আলু তুলে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চাষিদের। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ক্ষতিগ্রস্ত আলু কিনে নেওয়ার নির্দেশ প্রশাসনের। মাথায় হাত বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রাম লাগোয়া এলাকার বাসিন্দাদের। কোমর জলের নিচে ডুবে গিয়েছে গ্রাম লাগোয়া প্রায় একশো বিঘা জমির আলু। কোমর জলে নেমে কোনওক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত আলু তুলে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন চাষিরা। সরেজমিনে ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখে সুফল বাংলাকে ক্ষতিগ্রস্ত আলু কিনে নেওয়ার নির্দেশ দিল প্রশাসন।
বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের উত্তর নিত্যানন্দপুরের অবস্থান কার্যত দামোদর নদের পাড়ে। বিগত আমনের মরসুমে ডিভিসির দুর্গাপুর ব্যরেজ থেকে ছাড়া জলে ব্যপক বন্যা পরিস্থিতির তৈরি হয় এলাকায়। ব্যাপক ক্ষতি হয় আমন চাষে। সেই ক্ষতি কোনওক্রমে সামাল দিয়ে ঋণ নিয়ে রবি মরসুমে আলু চাষ করেছিলেন স্থানীয় চাষিরা। কিন্তু বৃহস্পতিবারের বৃষ্টি ও বোরো চাষের সেচের জন্য ডিভিসির ছাড়া জল কার্যত ভাসিয়ে নিয়ে গেল সেই আলুর জমি।
গতকাল হুড়মুড়িয়ে সেই জল ঢুকে পড়ে উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রাম লাগোয়া প্রায় একশো বিঘা আলুর জমিতে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জমির উপর কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও কোমর সমান জল জমে যায়। জলের তলা থেকে খুঁজে খুঁজে আলু উদ্ধারের প্রাণপণ চেষ্টা করলেও উৎপাদিত ফসলের খুব সামান্য অংশই তাঁরা উদ্ধার করতে সমর্থ হন। অবস্থা দেখে চোখে জলও এসে যায় অনেকের। মুখে একটাই কথা, আর তো ক’টা দিন। তারপরই তোলা হতো আলু। তার আগেই সব শেষ!
উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রামে এই অকাল বন্যার খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন কৃষি দফতর ও স্থানীয় ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকেরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ফসল বিমায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি সুফল বাংলার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ আলু সহায়ক মূল্যে কিনে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
