Mamata Banerjee: এদিন মমতা বলেন, "বাঁকুড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। এখানের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় ভাল। আমি রেলমন্ত্রী থাকার সময় বিষ্ণুপুর, আরামবাগ, তারকেশ্বর লাইন করে দিয়েছি। বাঁকুড়া স্টেশন নতুন করে দিয়েছিলাম। ট্রেন দিয়েছিলাম। নতুন রাস্তা দেওয়া হয়েছে।"
আমি ১০ দিন বাইরে আছি। আজ কলকাতা ফিরতেই হবে। ঈদের দিন রেড রোডের প্রার্থনায় থাকতে হয়, ৯ তারিখ ইফতারে থাকতে হবে। তারপর উত্তরবঙ্গে যাব। ১৩ তারিখ রাতে মা কালীর পুজো দিই প্রতিবার। আমার বাড়ির কাছে সতীপিঠ।
ইন্ডিয়া জোট দিল্লিতে আছে। বাংলায় নেই। এখানে কংগ্রেস, সিপিএম বিজেপির সঙ্গে আছে। কংগ্রেসকে এখানে ভোট দিয়ে, সিপিএমকে ভোট দিয়ে ভোটটা নষ্ট করবেন না। তৃণমূলকে দেবেন।
আমরা বলি নতুন সংসদভবনটা এখনই জেল করে দিন। কথার কথা বলুন। হুঙ্কার দিলে জেনে রাখবেন আমরা রয়াল বেঙ্গল টাইগার। আমরা লড়াই করলে লড়াই সামলানোর ক্ষমতা কারও নেই। গণতান্ত্রিক ভাষায় কাজ করুন, গ্রেফতারি বন্ধ করুন।
আরেকটা বিলও পাশ করিয়ে নিয়েছে কি না কে জানে। ১৪৭ জন সাংসদকে বাদ দিয়ে অভিন্ন দেওয়ানি। আপনারা জানেন হিন্দুদের মধ্যেও অনেক সাবকাস্ট আছে। ব্রাহ্মণ আছেন, শূদ্র আছেন, কায়স্থ আছেন। আদিবাসীদের বিয়ের ধরন অন্য। খ্রিস্টানদের, মুসলিমদের ধরন আবার অন্য। এটার মানে হচ্ছে আপনার নিজস্বতা বলে কিছু থাকবে না, আইডেনটিটি থাকবে না।
ক্যা আর এনআরসি। মাছের মাথা আর লেজু। মাথাটা হল ক্যা, লেজুটা হল এনআরসি। যেই আবেদন করলেন সঙ্গে সঙ্গে এনআরসিতে পড়ে গেলেন। আপনাকে ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকতে হবে। আপনার সব পরিচয় বন্ধ। আপনি তখন বিদেশি হয়ে গেলেন। ভুল করেও ক্যাতে নাম লেখাবেন না। আমরা ক্যা করতে দেব না, মানুষের পরিচয় কাড়তে দেব না। আমরা সবাই নাগরিক।
১১ লক্ষ বাড়ির তালিকা দিয়েছিলাম। কোথাও কালির দাগ ছিল না। দিল না টাকা। টিম এল, জিজ্ঞাসা করল, রিপোর্ট দিল, আমি প্রধানমন্ত্রীকে তিনবার মিট করলাম কই টাকা এল না। এখন বিজেপির কল সেন্টার থেকে ফোন করে বলছে ঘর চাইছে দরখাস্ত করতে। আমাদের লিস্ট নিয়ে এসব করছে।
বলছে দুর্নীতি। কোথায় সেটা প্রমাণ করে দেখাও। কেন গরু আসে উত্তর প্রদেশ, রাজস্থান থেকে টাকা খেতে খেতে। বাংলায় কেন ঢোকে। চাই না বাংলা দিয়ে আসুক। ওটা বিএসএফের আওতায়। কেন্দ্রের আওতায়। নিজেরা সামলাতে পার না?
আপনি মোদী কা গ্যারান্টি দিয়ে বলেন ৪ জুন কে বাদ সবকো জেল মে ভর দে গা। আমাদের গ্যারান্টি মা মাটি মানুষ, মমতা ব্যানার্জি নয়। আই এম নো বডি। আমি তো মানুষের পরিবারের একজন সদস্য। আমার গ্যারান্টি মানুষ। মানুষের গ্যারান্টি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষক বন্ধু।
আমার সঙ্গে ভালভাবে কথা বললে বাড়ির বাসনও মেজে দেব। আমি বাসন মাজতে ভালবাসি, রান্না করতে ভালবাসি। আমি ধামসা মাদল হারমোনিয়াম ক্যাসিও বাজাতে ভালবাসি। আমি বাঁশি বাজাতে ভালবাসি। আমি লিখতে ভালবাসি। আমি দাম্ভিক নই আপনাদের মতো।
হুঙ্কার দিচ্ছেন? এটা আপনার দলকে চাঙ্গা করার জন্য দিন। গণতন্ত্রের জন্য ওটা কার্বনডাই অক্সাইড। এটা ভোটে কাজ করে না। আর ভোটের পর এখানে তো আমাদের সরকার থাকবে। আপনারা বলছেন ভোটের পর জেলে পাঠাবেন, আমরাও তো বলতে পারি আপনাদের লোকজনকেও জেলে পাঠাব। কিন্তু আমি কি একথা বলেছি? কারণ আমি এটা বিশ্বাসই করি না।
আমাদের এখানে পরশু রাতে গিয়ে মহিলাদের বিরক্ত করেছে। এখন বলছে মহিলারা হামলা করেছেন। কেন যাবেন মাঝরাতে? ল’ অ্যান্ড অর্ডার রাজ্যের বিষয়। পুলিশকে না জানিয়ে রাত ৩টেয় গিয়ে মহিলাদের উপর হামলা করেন। ৫টার সময় পুলিশকে খবর দেন। এটা হতে পারে নাকি?
কেন হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার করেছেন? হেমন্তের স্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দেশে একমাত্র ট্রাইবাল চিফ মিনিস্টার ছিলেন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকেও গ্রেফতার করেছেন। কোনও ব্যাপার নয়, আরও অনেক ভোটে জিতে ফিরবেন ওনারা।
এনআইএ আর সিবিআই, বিজেপি কা ভাই ভাই। এনআইএ আর সিবিআই, বিজেপি কা ভাই ভাই। ইনকাম ট্যাক্স আর ইডি বিজেপির ফান্ড কালেকশন বক্স। এই তো চলছে। এরপর ধমকি দিচ্ছেন কাকে? আমরা ভয় পাই না। আমাদের ৫ জন গ্রেফতার হবে তাঁদের স্ত্রীরা রাস্তায় নামবেন। আমাদের এজেন্টকে গ্রেফতার করছেন। ক্ষমতা থাকলে মানুষের ভোটে জিতুন।
মোদীজী আপনি প্রধানমন্ত্রী। আপনি ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন, দীর্ঘ জীবন লাভ করুন। কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রীর মুখে কি শোভা পায় ‘৪ জুন হয়ে গেলে চুনচুনকে অ্যারেস্ট করেগা, সবকো জেল মে ভেজে গা’। আরে অভি তো হিন্দুস্তানকো জেল বনা দিয়া আপনে। লোকতন্ত্র, গণতন্ত্র কো জেল বানা দিয়া পহেলে হি। হর জাগা মে জেল বানা দিয়া। আপকা এক পকেট মে এনআইএ, আরেক পকেট মে সিবিআই। এক পকেট মে ইডি তো অউর পকেট মে ইনকাম ট্যাক্স।
বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে ৫ হাজার বাড়ির জন্য। ইলেকশন কমিশনকে সাতদিন আগেই রাজ্য লিখেছে। এটা কেন্দ্রের টাকা নয়। আমরা দেব, তাও অনুমতি দিচ্ছে না। ইলেকশনের জন্য পারছি না। ভোট না থাকলে আমি এক সেকেন্ডে করে দিতাম। ভোটের জন্য অনুমতি নিতে হচ্ছে। বিজেপি বলছে ইলেকশনের আগে দেবে না।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী জলপাইগুড়ি মিটিং করতে গিয়েছিলেন। খুব ভাল, স্বাগত। ব্লকে ব্লকে বাংলায় মিটিং করুন। আপনার এটা অধিকার। কিন্তু মিটিং করে জলপাইগুড়ির একটা মানুষকেও সাহায্যের কথা বললেন না? যাঁদের ঘর উড়ে গিয়েছে, বাচ্চা মারা গিয়েছে। অথচ আমি মধ্যরাতে ছুটে গিয়েছিলাম। সকলকে আমরা ত্রাণ দিয়েছি।
কেন্দ্র আমাদের টাকা দেয় না। ৬ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি আমাদের টাকা নিয়ে গিয়েছে। ১ লক্ষ ৮৪ হাজার কোটি টাকা দেয়নি। তারপরও সবার মাইনে বাড়ানো হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৫০০ থেকে ১ হাজার করা হয়েছে। এটা চলবে।
শিক্ষাবন্ধুদের মাইনে বেড়েছে, এমনকী সরকারি কর্মীদের ৪ শতাংশ ডিএ বাড়িয়েছি। মে মাসে আরও ৪ শতাংশ দেব।
৬০ বছর হয়ে গেলেও টাকা পাচ্ছেন। সারা জীবন টাকা পাবেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সবার জন্য।
সারি আর সারনা ধর্মের স্বীকৃতি কেন্দ্রকে দিতে হবে। আমরা চিঠি দিয়েছি, যা করার করেছি। তারপরও করছে না। আমরা কুরুক ভাষা, অলচিকিকে স্বীকৃতি দিয়েছি। জয় জোহার নামে পেনশন করেছি, তফশিলি বন্ধু পেনশন দিচ্ছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছি।
গত লোকসভায় বিজেপি বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুরে জিতেছিল। কিছু করেছে? ক’বার তালডাংরা, রাইপুর গেছেন? আর বিষ্ণুপুরের সাংসদের কথা নাই বা বললাম। জানি না ডিভোর্স হয়েছে কি না। তাঁর স্ত্রী দাঁড়িয়েছেন সেখানে। সাংসদের যদি আমি ফোটোগুলো খুলি বিষ্ণুপুরের মানুষ বুঝতে পারবেন বিজেপি কত আদর্শবান দল। সব ছবি আমার কাছে আছে।
কেন্দ্রের নীতির ফলে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার হচ্ছে। মণিপুর, হাথরস, বিলকিসের পরিবারকে দেখেছেন সকলে। সাক্ষী ভারতকে সোনা এনে দিয়েছে। তাঁর সঙ্গেও বিজেপির নেতারা খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে।।
আদিবাসীদের জমি যাতে না কাড়া যায় আইন করেছি।
স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের জন্য জেলায় জেলায় মার্কেট করে দেব। আমাদের বাজেটে বলা আছে। আপনাদের জিনিস মার্কেটে বিক্রি করতে পারবেন। ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় সেলফহেল্প গ্রুপ চালু করার জন্য।
বিষ্ণুপুর স্বাস্থ্যজেলা। বাঁকুড়ার চারটি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক করে দিয়েছি। রঘুনাথপুরে ৭৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। দেড় লক্ষ ছেলে মেয়ে চাকরি পাবে। বরজোড়াতেও হচ্ছে।
আগে বাঁকুড়া ছিল অশান্তির জায়গা। জঙ্গলমহল ছিল সন্ত্রাসের জায়গা। মানুষ বেরোতে পারত না, আর গুন্ডাদের দৌরাত্ম্য চলত। আমরা জঙ্গলমহলকে শান্ত করেছি। এটা আপনাদেরই অবদান।