
বাঁকুড়া: এপ্রিলের গরম। কারও মাথায় টুপি। কেউ মাথায় কাপড় জড়িয়েছেন। মিছিলে কয়েকজনের হাতে ছাতাও দেখা যাচ্ছে। ছাতায় লেখা TMC। দলের তরফে ওই ছাতা দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। কিন্তু, হাতে গোনা কয়েকটি ছাতা কেন? এই প্রশ্ন ওঠার আগেই ফোঁস করে উঠলেন স্বয়ং তৃণমূল সাংসদ। বাঁকুড়ায় প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার মিছিলে দলের কর্মীদের ছাতা দেওয়া হয়েছিল। সেই ছাতারই বেশিরভাগ গায়েব হয়ে গিয়েছে বলে ক্ষোভ উগরে দিলেন শাসকদলের সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। এই নিয়ে ঘাসফুল শিবিরকে খোঁচা দিতে ছাড়ল না বিরোধীরা।
গত বুধবার বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দফতরে একত্রে নিজেদের মনোনয়ন জমা করেন বাঁকুড়ার তৃণমূল প্রার্থী অনুপ মণ্ডল, ছাতনার তৃণমূল প্রার্থী স্বপন মণ্ডল ও শালতোড়ার তৃণমূল প্রার্থী উত্তম বাউরি। মনোনয়ন জমা করার আগে বাঁকুড়া হিন্দু হাইস্কুল ময়দান থেকে দলীয় বিপুল সংখ্যক কর্মীকে সঙ্গে শোভাযাত্রা করেন ওই তিন তৃণমূল প্রার্থী। বাঁকুড়ার প্রবল গরম ও প্রখর রোদ থেকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কর্মীদের বাঁচাতে এবং শোভাযাত্রাকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করে তুলতে তৃণমূলের প্রতীক আঁকা কয়েক’শো ছাতা ও গেঞ্জি বিতরণ করা হয়েছিল দলের তরফে।
বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর অভিযোগ, দলের তরফে দেওয়া সেই ছাতার একটা বড় অংশ দেখা যায়নি মনোনয়নের শোভাযাত্রায়। মাঝপথেই সেগুলি গায়েব হয়ে যায়। তৃণমূলের একটি কর্মিসভায় এই ঘটনা নিয়ে সাংসদ তাঁর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি। নিজের দুঃখের কথা বলে দলের নেতাদের তিরস্কারের সুরে সাংসদ বলেন, সেদিন যে সংখ্যক ছাতা ও গেঞ্জি দেওয়া হয়েছিল তার অর্ধেকই গায়েব হয়ে গিয়েছিল। বলেন, “আমরা ছাতা দিলাম। সেগুলো ঘরে ঢুকিয়ে নিল। পৌরসভায় কাজে লাগবে। ছাতাগুলো বেরল না। তৃণমূল করব আমরা? অর্ধেক বেরিয়েছিল। অর্ধেক বেরোয়নি।”
বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি ও বামেরা। বাঁকুড়ার বিজেপি প্রার্থী নিলাদ্রীশেখর দানা বলেন, “এই দলটাই চোর তৃণমূল। আর সরকারটা চোর তৃণমূল সরকার। দিনে রাতে পুকুর চুরি হয়ে যাচ্ছে। কোথায় চুরি নেই এদের। চুরি না করলে এদের পেট ভরে না। অরূপবাবু সত্যি কথা বলেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। আর উনি নিজে তো চুরির হেডমাস্টার।”
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সিপিএম প্রার্থী অভয় মুখোপাধ্যায় বলেন, “এটা খুবই সাধারণ ঘটনা। ছাতা চুরি দেখে উনি দুঃখ পাচ্ছেন। কিন্তু, ওই দলটার মূল মন্ত্র চুরি। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য চুরি করেছে। সেখানে উনি ছাতা চুরি দেখে কষ্ট পাচ্ছে। এটা দেখে হাসি লাগছে। জনগণ যেভাবে তৃণমূলের উপর ক্ষেপে উঠেছেন, এরপর তৃণমূল দলটাই চুরি হয়ে যাবে।”