Birbhum: ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় নাম দেখেই আতঙ্কিত, যুবকের মৃত্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর
SIR in Bengal: তৃণমূল পরিচালিত সিউড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আরিফ হোসেন বলেন, "অতিরিক্ত টেনশনে ব্রেন স্ট্রোকে মারা গিয়েছেন। তাঁর বাবার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। নামে কোনও গন্ডগোল নেই। আজকে বিজেপির কথায় তাদের টার্গেট পূরণ করতে নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করছে। আর সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।"

সিউড়ি: এসআইআর-র চূড়ান্ত তালিকা বের হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন। কারণ, তাঁর নাম ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় রয়েছে। রবিবার রাতে আচমকা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল যুবকের। মৃতের নাম শেখ কামরুল (২৮)। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে ব্রেন স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে কামরুলের। মৃত যুবকের বাড়ি বীরভূমের সিউড়ির আলুন্দা পঞ্চায়েতের ধল্লা গ্রামে। এই মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
কামরুলের পরিবারের বক্তব্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর-র চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দেখার পর থেকে প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন কামরুল। তাঁর আশঙ্কা ছিল, নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এবং তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের কাছে বারবার এই আশঙ্কার কথা জানান।
কামরুল ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা, মা, স্ত্রী এবং দুই সন্তানের দায়িত্ব তাঁর উপরেই ছিল। মা জানজাহারা বিবি বলেন, “ছেলে আতঙ্কে ছিল। অনেকেই নানা কথা বলছিল। তাতে ভয় পেয়েছিল।” রবিবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে কামরুলকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে স্ট্রোকের আশঙ্কা করে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে স্থানান্তরের আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
কামরুলের মৃত্যুর জন্য এসআইআর-কে দায়ি করে বিজেপি ও কমিশনকে নিশানা করেছে রাজ্যের শাসকদল। তৃণমূল পরিচালিত সিউড়ি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আরিফ হোসেন বলেন, “অতিরিক্ত টেনশনে ব্রেন স্ট্রোকে মারা গিয়েছেন। তাঁর বাবার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। নামে কোনও গন্ডগোল নেই। আজকে বিজেপির কথায় তাদের টার্গেট পূরণ করতে নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করছে। আর সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আর কত প্রাণ গেলে নির্বাচন কমিশনের হুঁশ ফিরবে? আমরা উন্নয়ন করে ভোট নিতে চাই। আর ওরা ভয় দেখিয়ে জিততে চায়।” তিনি আরও বলেন, “দুটো ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে কামরুলের। বাড়িতে অসুস্থ বাবা। সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছে।”
তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, “তৃণমূল অনেক কিছু বলবে। এর আগে এসআইআর-র নোটিস পেয়েও অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে তৃণমূল দাবি করেছিল। আমরা যখন অনেকের বাড়িতে গেলাম, সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হল। কেউ মারা গিয়েছেন বয়সজনিত কারণে। কারও রোগ ছিল। এটাও সেই ধরনের বিষয়। এসআইআর আতঙ্কে কারও মৃত্যু ঘটেনি। আর ওই বিচারাধীন বিষয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও দায়ি। বিএলও এবং এইআরও এবং ইআরও-র মাধ্যমে এসআইআর হয়েছে। বিজেপি এসআইআর-এ জড়িত নয়। তৃণমূল বুঝে গিয়েছে, তাদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। তাই এসব প্রচার করছে।”
