
বীরভূম: সামান্য ঘটনার জেরে অকালে ঝরে গেল কিশোরীর প্রাণ। মোবাইল নিয়ে দিদির সঙ্গে ঝগড়ার জেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করল এক নবম শ্রেণির ছাত্রী। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের পাঁচড়া চন্দননগর গ্রামে। মৃত ছাত্রীর নাম অন্তরা মিস্ত্রি। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়। শোকের ছায়া পরিবারে। তাঁরা ভাবতেই পারছেন না সামান্য ঝগড়ার কারণে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে পারে ছোট্ট মেয়েটা।
পারিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তরা মোবাইল নিয়ে খেলছিল। সেই সময়েই তার দিদির সঙ্গে ওই মোবাইলেই নিয়ে বচসা তৈরি হয়। রাগের মাথায় দিদি মোবাইলটি আছাড় মারে। এরপরই তীব্র অভিমানে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় অন্তরা। মৃতার দাদা প্রসেনজিৎ মিস্ত্রি জানান, বাড়ি থেকে বেরিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরতে থাকে অন্তরা। পরিবারের অনুমান, সেই সময় রাগের বশে সে জমিতে দেওয়ার ঘাস মারা বিষ খেয়ে ফেলে। বিষয়টি নজরে আসতেই তাকে তড়িঘড়ি প্রথমে সিউড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায় পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু ততক্ষণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করেছে। দ্রুত তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
সেখানেই চলতে থাকে চিকিৎসা। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। সোমবার হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর। ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরেই পুলিশের পক্ষ থেকে দেহ পরিবারের তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে কান্নার ভেঙে পড়েছেন অন্তরার পরিবারের সকলেই। কাঁদছেন প্রতিবেশীরাও। সামান্য মোবাইল ফোনের বিবাদ যে এমন করুণ পরিণতি ডেকে আনবে, তা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।