Tarapith Hotel Fire: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, ঘুমের মধ্যেই অগ্নিদগ্ধ অনেকে! মৃত অন্তত ৬
Fire Breaks out at Tarapith Hotel: শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। কারও দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে, কেউ আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে খবর। গুরুতর জখম অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তারপীঠ: ভোররাত। তখন সকলে ঘুমে আচ্ছন্ন। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার কেউ হয়তো মা তারাকে পুজো দিতে এসেছিলেন, কেউ আবার ঘুরতে গিয়েছিলেন, আবার কেউ ছিলেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন। কিন্তু, সোমবারের সকালটা যে আর দেখা হবে না, তা কেই বা জানত। মর্মান্তিক ঘটনা তারাপীঠে। সেখানে একটি হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। কারও দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে, কেউ আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে খবর। গুরুতর জখম অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তারাপীঠ থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুকুরের ধারে রয়েছে ওই হোটেল। শ্রাবণের শেষ সোমবার বলে পূণ্যার্থীদের ভিড় ছিল হোটেলে। সোমবার সেই হোটেলেই ভোররাতে আচমকা আগুন লাগে। জানা গিয়েছে, ভোররাতে হোটেলের এক তলায় বিদ্যুত সরবরাহের এনসিবিতে হঠাৎ আগুন দেখতে পান হোটেলের কর্মীরা। তারপরই চিৎকার, ডাকাডাকি শুরু করেন তাঁরা। কিন্তু, ততক্ষণে আগুন পুরো ছড়িয়ে পড়ে হোটেলের বিল্ডিংয়ে। বিশেষ করে ফাইবারের যে জিনিসপত্র ছিল, তাতে আগুন ধরে যাওয়ায় আরও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
হোটেলের পাশেই থানা থাকায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশবাহিনী ও দমকলবাহিনী। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ পর্যটক, অনেকে আবার কর্মী বলে জানা গিয়েছে। তবে, ছয়জনেরই মধ্যে অনেকে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আবার অনেকের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনকে হোটেল থেকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তারপীঠে পুজো দিতে গিয়েছিলেন এক পর্যটক। ওই হোটেলেই ছিলেন। তাঁর কথায়, “ভোর ৪টের সময় বাইরে বিকট আওয়াজ। রিসেপশনের ডান দিকে দু’নম্বর ঘরে আমরা ছিলাম। মা আর বোন ছিল এক নম্বর ঘরে। দরজা খুলে বেরোতে গিয়ে দেখি আগুন ঢুকে আসছে। আমরা দরজা বন্ধ করে দিই। ঘরে কোনও জানলা ছিল না। শৌচালয়ে গিয়ে আমরা সেখানকার উপরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করছিলাম। প্রায় ৪৫ মিনিট আটকে ছিলাম আমি, আমার স্ত্রী আর দুই সন্তান। তারাপীঠ থানায় বারংবার ফোন করেছি। ওঁরা এসে দরজা ভেঙে আমাদের উদ্ধার করেন।”
দমকলকর্মীদের প্রাথমিক অনুমান, শটশার্কিট থেকেই আগুন লাগে। কিন্তু, শট সার্কিট হল কীভাবে? ইলেকট্রিক যে সরঞ্জাম রয়েছে তা ঠিক মতো ব্যবহার হয়েছিল কি না। হোটেলের পরিকাঠামোতে পৌরসভার অনুমোদন ছিল কি না, অগ্নি সুরক্ষা বিধি ঠিক মতো মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
