AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Nandigram: ‘চুন বওয়ার লোক নেই…দলটা আদৌ আছে?’, সেই নন্দীগ্রামের মাটিতে অক্সিজেন পাচ্ছে বামেরাও

Nandigram Bye Election: আগামী ৬ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে আসা আসন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। আজ, মঙ্গলবার সেখানে মনোনয়ন জমা দিলেন বাম প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি ও বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। হাসিরানির সঙ্গে ছিলেন খোদ শুভেন্দু অধিকারী। রেকর্ড মার্জিনে জয়ের বার্তা দিয়ে এসেছেন তিনি।

Nandigram: 'চুন বওয়ার লোক নেই...দলটা আদৌ আছে?', সেই নন্দীগ্রামের মাটিতে অক্সিজেন পাচ্ছে বামেরাও
Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Sep 15, 2026 | 9:19 PM
Share

নন্দীগ্রাম: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে লেখা থাকবে নন্দীগ্রামের (Nandigram) নাম। সেই নন্দীগ্রাম, যেখানকার আন্দোলনে ভর করে তৃণমূলের উত্থান। যে মাটিতে তৈরি হওয়া ক্ষোভের আগুনকে হাতিয়ার করে বাম সরকারের পতন ঘটিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই মাটিতে আজ তৃণমূলকেই দূরবীন দিয়ে খুঁজতে হচ্ছে। উপ নির্বাচনের আগে সেই মাটিতে নতুন করে অক্সিজেন পাচ্ছে বামেরাও।

ইতিহাস খুব বেশি পুরনো নয়। মাত্র ২ দশক আগে এক মার্চে পুলিশের গুলিতে ১৪ জন গ্রামবাসীর মৃত্যু ঘিরে আগুন জ্বলেছিল নন্দীগ্রামে। বাম সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা রাজ্যে। পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছিল। তারপর অনেক রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী থেকেছে নন্দীগ্রাম। ২০২১-এ সেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হতে হয়েছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

একুশে পরাজিত হতে হলেও, জোর কিছু কম ছিল না ঘাসফুলের। কিন্তু ২৬-এ একেবারে ধুলিস্যাৎ। খাতায়-কলমে ৮০ জন বিধায়ক থাকলেও, বাস্তবে তৃণমূল দলটা কোথায়, সেই প্রশ্নই করছে নন্দীগ্রাম।

আগামী ৬ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছেড়ে আসা আসন নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। আজ, মঙ্গলবার সেখানে মনোনয়ন জমা দিলেন বাম প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি ও বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। হাসিরানির সঙ্গে ছিলেন খোদ শুভেন্দু অধিকারী। রেকর্ড মার্জিনে জয়ের বার্তা দিয়ে এসেছেন তিনি। দুই দলই দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছে। পতাকা হাতে প্রচারেও দেখা যাচ্ছে বাম-বিজেপিকে। কিন্তু জোড়াফুলের দেখা নেই। একটা নয়, দুটো পৃথক তৃণমূল শিবির প্রার্থী ঘোষণা করলেও, কারও কোনও দেওয়াল লিখন দেখা যাচ্ছে না নন্দীগ্রামে।

তৃণমূলকে নিয়ে প্রশ্ন করায় এলাকারা এক বাসিন্দা বলেন, “ওদের প্রচারে চুন বওয়ারও লোক নেই।” আর তৃণমূলের প্রার্থীদের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য,  “টিভিতে দেখেছি। চিনি না।” যে মাটিতে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, সেই রাস্তায় দাঁড়িয়েই কেউ কেউ বলছেন, ‘দলটা আদৌ আছে না নেই, কেউ জানে না। তৃণমূল আর জীবনেও ঘুরে আসবে না।’

পরপর দু’বার যে কেন্দ্র থেকে বিজেপি তথা শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হয়েছেন, সেখানে বিজেপির আত্মবিশ্বাস যে তুঙ্গে, তা বলাই বাহুল্য। বিজেপির ২৬৫ বুথের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ মন্ডল বলেন, “বিজেপি এখানে যেভাবে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছে, তাতে আর কেউ কিছু করতে পারবে না।” ইতিমধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘কোনও বিরোধী দলের সিকিউরিটি মানি থাকবে না’ তবে, নন্দীগ্রাম ঘিরে আশা দেখছে বামেরাও। সেই নন্দীগ্রামের মাটিই অক্সিজেন জোগাচ্ছে।

নন্দীগ্রামে সিপিএমের দক্ষিণ এরিয়া কমিটির সদস্য অলোকেশ মন্ডল মনে করিয়ে দিচ্ছেন সূর্য কান্ত মিশ্র একসময় বলেছিলেন, ‘হেরে গেলে ওদের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না।’ বাম নেতা বলেন, “আজ সে কথাই সত্যি হচ্ছে। ৮০ জন বিধায়ক থাকলেও তাঁদের দেখা যাচ্ছে না। তৃণমূলের আদৌ কোনও অস্তিত্বই নেই।” ইতিমধ্যেই সিপিএমের দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। পতাকা কাঁধে রাস্তায় নেমে পড়েছেন পুরনো কর্মীরা। ময়দানে তৃণমূল নেই, তাই তাঁদের চোখে-মুখে আলাদা আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য়, তৃণমূলের দুই শিবিরই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। কালীঘাট-তৃণমূলের প্রার্থীর নাম সঞ্চিতা প্রধান দে। ঋতব্রতরা প্রার্থী হিসেবে এতেসামূল হকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কে জোড়াফুল প্রতীকে লড়বে, আদৌ কোনও পক্ষ জোড়াফুল প্রতীকে লড়বে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। নির্বাচন কমিশনে চলছে লড়াই। সেই সংশয়েই কি প্রচারে নেই তৃণমূলের কোনও শিবির?

Follow Us