
বীরভূম: ভোট এলেই একসময় বীরভূমে গুড় বাতাসার কথা শোনা যেত। কখনও রাস্তায় উন্নয়ন দাঁড়িয়ে থাকার কথা বলতেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। বিরোধীরা অভিযোগ করতেন, তাঁদের হুমকি দিতেই এসব কথা বলতেন বীরভূমে তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ ওই নেতা। সময় বদলেছে। তবে ‘হুমকি’-র রাজনীতি রয়েই গিয়েছে বীরভূমে। এবার অবশ্য অনুব্রত নন, তৃণমূলের এক ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে বিজেপিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। পাল্টা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূল নেতা যখন দু’চোখ ট্যারা করে দেওয়ার কথা বললেন, তখন বিজেপি নেতার হুমকি, ‘ফল ঘোষণার পর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন না।’
কী বললেন তৃণমূল ও বিজেপি নেতা?
ভোটগ্রহণের আগে ফের হুমকির রাজনীতিতে উত্তপ্ত বীরভূমের সিউড়ি। বিজেপির নাম না করে বীরভূমের রাজনগরের তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি সুকুমার সাধু হুমকির সুরে বলেন, “একটা কথা শুনে যাও, আমাদের কর্মীদের একবারও হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করবে না। একটা ট্যারা চোখ আছে, দুটো ট্যারা চোখ করে দেব চার তারিখের পর। মিথ্যা অপপ্রচার করবে না, ৪ তারিখ তুমি বুঝবে তোমার কী হয়। দিদি বলেছিল বদলা নয়, বদল চাই। আমি বলছি, সিউড়ি বিধানসভাতে বদল হবে, বদলাও হবে।”
তৃণমূল নেতাকে পাল্টা নিশানা করে স্থানীয় বিজেপি নেতা অনুপ গড়াই বলেন, “আপনি আমাকে আক্রমণ করছেন। ক্ষমতা থাকলে নাম নিয়ে আক্রমণ করুন। আপনি জেনে রাখুন আমরাও বাঘা তেতুল। নিউটনের তৃতীয় সূত্র বলেছে প্রত্যেক ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। কিছু করার থাকলে চার তারিখের আগে করে নিন। চার তারিখে পর আপনার এমন অবস্থা করব, আমি সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবেন না।”
৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। প্রশ্ন উঠছে, ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা কি আবার ফিরতে চলেছে বীরভূমে? নির্বাচন কমিশন অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতেও পদক্ষেপ করছে তারা।