Rahul Sinha : আদি নেতার উপরই ভরসা বিজেপির, বাংলা থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল সিনহা
Rahul Sinha : প্রথমবার তিনজন বিজেপি সাংসদ পেতে চলেছে বাংলা। অনন্ত মহারাজ, শমীক ভট্টাচার্যের পর এবার রাজ্যসভায় যাচ্ছেন রাহুল সিনহা। বঙ্গবিজেপির পুরনো মুখ তিনি। এর আগে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি ছিলেন। এবার আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে রাহুল সিনহাকে।

কলকাতা : রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল বিজেপি। বাংলা থেকে বিজেপি প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল সিনহা। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভায় মোট পাঁচটি আসন ফাঁকা রয়েছে। তার মধ্যে চারটি আসনে ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করে চমকে দিয়েছে তৃণমূল। বাকি একটি আসনে বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে,সেই নিয়ে জল্পনা চলছিল। একাধিক নাম উঠে আসছিল। শেষপর্যন্ত রাহুল সিনহার নামই চূড়ান্ত করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বাংলা থেকে পঞ্চম আসনে রয়েছেন তিনি। এদিকে, সংসদের উচ্চকক্ষে যাচ্ছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও।
মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ৬টি রাজ্যের রাজ্যসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি। তার মধ্যে রয়েছে বিহার, অসম, ছত্তীসগঢ়, হরিয়ানা, ওড়িশা ও বাংলা। বিহার থেকে বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী হচ্ছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। এছাড়া বিহার থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে শিবেশ কুমারের নামও ঘোষণা করা হয়েছে। অসম থেকে প্রার্থী হচ্ছেন তেরাস গোয়ালা ও যোগেন মোহন। ছত্তীসগঢ় থেকে প্রার্থী হচ্ছেন লক্ষ্মী বর্মা। হরিয়ানা থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সঞ্জয় ভাটিয়াকে। ওড়িশা থেকেও দু’জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। মনমোহন সমল ও সুজিত কুমারকে প্রার্থী করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের পাশে জ্বলজ্বল করছে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহার নাম। প্রথমবার তিনজন বিজেপি সাংসদ পেতে চলেছে বাংলা। অনন্ত মহারাজ, শমীক ভট্টাচার্যের পর এবার রাজ্যসভায় যাচ্ছেন রাহুল সিনহা। বঙ্গবিজেপির পুরনো মুখ তিনি। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি ছিলেন। তবে, কয়েক বছর ধরে তাঁকে সেভাবে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি। বিজেপির বাড়বাড়ন্ত হলেও তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেন অনেকেই।
শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর থেকেই রাহুল সিনহাকে ফের সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরেছেন। মাঠে-ময়দানে, রাজনৈতিক সভায় দেখা গিয়েছে। বঙ্গ বিজেপির হাল ধরতেই পুরনো মুখগুলিকে ফিরিয়ে এনেছে। এখানে একটা নাম বিশেষ উল্লেখের। তিনি দিলীপ ঘোষ। দলে দিলীপ ঘোষের অবস্থান নিয়ে মাঝে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তাঁকে কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে বলে এমনও শোনা গিয়েছে। তবে, রাজ্য নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিলীপকে। বিভিন্ন সভায় গিয়ে তীক্ষ্ণধার ভাষণের মধ্যে দিয়ে দলকে চাঙ্গা করেছেন। বঙ্গ বিজেপির পুরনো মুখগুলিকে ফিরিয়ে আনার নেপথ্যে শমীক ভট্টাচার্য, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তবে, আজ পর্যন্ত যতগুলি নির্বাচনে লড়েছেন রাহুল সিনহা, প্রত্যেকটাতেই হেরেছেন। মোট চারবার বিধানসভায় প্রার্থী হয়েছেন তিনি। লোকসভায় প্রার্থী হয়েছেন পাঁচবার। নির্বাচনী লড়াইয়ে ৯বারই হেরেছেন রাহুল সিনহা। তাঁর আক্ষেপ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি হলেও কখনও বিধায়ক বা সাংসদ হতে পারেননি। রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই অবশেষে সেই আক্ষেপ মিটতে চলেছে বলা যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, ১৬ মার্চ রাজ্যসভায় বাংলার ৫ আসনে নির্বাচন। পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল। শাসকদলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছে কোয়েল মল্লিক, বাবুল সুপ্রিয়, মেণকা গুরুস্বামী ও রাজীব কুমারকে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। বিশেষ করে চর্চা চলছে দু’টি নাম নিয়ে। মেণকা গুরুস্বামী ও রাজীব কুমার।
এদিকে, পাঁচ আসনের মধ্যে একটি আসন বিজেপির ঝুলিতে যাবে তা নিশ্চিত। তবে, এই আসন নিয়ে একাধিক নাম উঠে আসছিল। সেই তালিকায় রাহুল সিনহার পাশাপাশি মিঠুন চক্রবর্তী-সহ এক পদ্মশ্রী প্রাপক সঙ্গীতশিল্পীর নামও উঠে আসছিল। শেষপর্যন্ত রাহুল সিনহার নাম মনোনীত করল বিজেপি।
