Cooch Behar: বক্স খাটের ভিতরে ‘গা-ঢাকা’ তৃণমূল নেত্রীর, খুঁজতে এসে হতবাক পুলিশ
Cooch Behar TMC Woman Leader Detained: কিছুদিন আগে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে শাড়ির স্তূপের নিচে লুকিয়ে পড়েছিলেন হাওড়ার আমতা এলাকার এক যুব তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী। সরকারি আবাসন প্রকল্পের 'কাটমানি' নেওয়া ও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে ধরতে এলে, তিনি স্থানীয় একটি কাপড়ের গোডাউনে শাড়ির গাদার নিচে লুকিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে।

কোচবিহার: রাজ্যে পালাবদলের পর ‘ডিম থেরাপি’ দিকে দিকে দেখা গিয়েছে। নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়েছেন সাধারণ মানুষ। আবার গ্রেফতারি এড়াতে কাউকে শাড়ির স্তূপের মধ্যে লুকিয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে। এবার কোচবিহারে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে নিজের বাড়িতেই বক্স খাটে ‘গা-ঢাকা’ দিলেন এক তৃণমূল নেত্রী। বক্স খাটের ভিতর থেকে এদিন তাঁকে আটক করেছে পুলিশ।
কোচবিহারের মাথাভাঙায় তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সংগঠনের শহর ব্লক সভানেত্রী আসমিনা বেগম। রাজ্যে পালাবদলে পর তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগ ওঠে। এদিন তাঁর বাড়িতে আসে মাথাভাঙা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁকে একটি বক্স খাটের ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই আসমিনা বেগম আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগে বিজেপির পক্ষ থেকে মাথাভাঙা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার বিজেপির মহিলা মোর্চার কর্মীরা আসমিনা বেগমের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় বক্স খাটের ভিতর থেকে আসমিনা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ তৃণমূল নেত্রীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। কোচবিহারের মহিলা মোর্চার নেত্রী সুজা দাস বলেন, “ওঁরা একটা গোপন বৈঠক করেছিলেন। যেখানে ঠিক করেছিলেন, মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে লাঠি, ঝাড়ু, ঝাঁটা দিয়ে পিটিয়ে মাথাভাঙা ছাড়া করব। আমাদের মন্ত্রীর অপমান মেনে নিতে পারব না। সেজন্য আমরা আজ মহিলা মোর্চা ওঁর সঙ্গে কথা বলতে এসেছিলাম। উনি বক্স খাটের ভিতর লুকিয়ে ছিলেন। পুলিশ এসে নিয়ে গিয়েছে।” কাটমানি, তোলাবাজির অভিযোগ নিয়ে আসমিনা বেগম কিংবা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত কিছুদিন আগে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে শাড়ির স্তূপের নিচে লুকিয়ে পড়েছিলেন হাওড়ার আমতা এলাকার এক যুব তৃণমূল নেতা ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী। সরকারি আবাসন প্রকল্পের ‘কাটমানি’ নেওয়া ও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে পুলিশ তাঁকে ধরতে এলে, তিনি স্থানীয় একটি কাপড়ের গোডাউনে শাড়ির গাদার নিচে লুকিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করে।
