
কোচবিহার: বাংলার কৃতি ১১। পদ্মসম্মান পেয়েছেন তাঁরা। রবিবার সন্ধ্যায় পদ্মসম্মানের তালিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই তালিকাতেই পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় নাম রয়েছে কোচবিহারের রাজবংশী ঘরের ছেলে অধ্যাপক ও গবেষক মহেন্দ্রনাথ রায়। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদ্মসম্মান পেতে চলেছেন তিনি।
এদিন ভাইয়ের এই রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়ার খবর পেয়ে খুশিতে গদগদ হয়েছেন বৃদ্ধ দিদি। ভাই মহেন্দ্র কর্মসূত্রে শিলিগুড়ি চলে গেলেও, বৃদ্ধ দিদি থাকেন কোচবিহারেই। সেখানকার মেখলিগঞ্জ মহকুমার হলদিবাড়ি ব্লকের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মহেন্দ্রনাথ রায়ের দিদি সরদিনি রায়। এদিন ভাইয়ের কৃতিত্বের কথা শুনে তিনি বলেন, ‘আজ আমার ওর সঙ্গে কথা হয়নি। তবে শুনলাম, ও নাকি এত বড় খেতাব পেয়েছে। এখানের স্কুলেই তো ওর পড়াশোনা। খুব খুশি হয়েছি।’
সীমান্তবর্তী এলাকার ছেলে অধ্যাপক ও গবেষক মহেন্দ্রনাথ রায়। দেখেছেন দারিদ্র। কিন্তু কখনও থেমে থাকেননি। শিক্ষাকেই নিজের ধার করে এগিয়ে চলেছেন তিনি। বর্তমানে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্য়ালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রধান হিসাবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। তবে শুধুই মহেন্দ্রনাথ রায় নয়, চলতি বছরের পদ্ম প্রাপকদের মধ্যে রাজ্যভিত্তিতে নজর কেড়েছে বাংলা। একযোগে ১১ কৃতিকে এই সম্মানে ভূষিত করতে চলেছে কেন্দ্র।
সাহিত্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অশোক কুমার হালদার। মালদহে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রেলে নিরাপত্তাকর্মী হিসাবে। পরবর্তীতে দলিত সাহিত্যিক হিসাবে পরিচিতি। অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ রায়ের মতো একই বিভাগে পদ্মপুরস্কার পাচ্ছেন দার্জিলিঙের শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী গম্ভীর সিংহ ইয়োনজোনে।
শিল্পকলা ক্ষেত্রে মরণোত্তর পদ্মশ্রী পাচ্ছেন হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। সঙ্গে রয়েছেন জ্যোতিষ দেবনাথ এবং তবলাবাদক কুমার বসুও। বাংলায় শিল্পকলা ক্ষেত্রে পদ্মসম্মান প্রাপকদের সংখ্য়া বেশি। এই তালিকায় নাম রয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তৃপ্তি মুখোপাধ্যায় এবং তরুণ ভট্টাচার্যের। মেডিসিনে পদ্মশ্রী পেলেন সরোজ মণ্ডল।