Richa Ghosh : শুনানিতে ডাক পাননি, তারপরেও এসআইআর-এ ‘বিচারাধীন’ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নাম
Richa Ghosh : রিচার বাবা বলেন,"কমিশন এর আগে কিছু তথ্য চেয়েছিল। তা জমা দিয়েছিলাম। বার্থ সার্টিফিকেট দিয়েছি। সেটা আপলোডও করা হয়েছিল।" এদিকে, ২০০২-এর তালিকায় রিচার বাবা-মা দুজনেরই নাম রয়েছে। তাহলে কেন রিচার নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না রিচার বাবা-মা।

শিলিগুড়ি : রিচা ঘোষ। বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেশকে গর্বিত করেছেন, বাংলাকে গর্বিত করেছেন এই ক্রিকেটার। কিন্তু সেই রিচা ঘোষই পাশ করতে পারলেন না এসআইআরের পরীক্ষায়? চূড়ান্ত তালিকায় অ্যাপ্রুভড তালিকায় নাম নেই রিচা ঘোষের। তাঁর নাম অমীমাংসিতের তালিকায়। রিচা ঘোষের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায়। অর্থাৎ, বিচারাধীন রয়েছে তাঁর নাম। যে ক্রিকেটার দেশের হয়ে খেলেছেন, যে ক্রিকেটার ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন, কাপ জিতিয়েছেন দেশকে, সেই রিচা ঘোষের নাম কীভাবে অমীমাংসিতের তালিকায় থাকতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
শিলিগুড়ির কলেজপাড়ার ৩০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিচা ঘোষ। বরাবর ওই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা। এই মুহূর্তে বাড়িতে নেই রিচা ঘোষ। খেলা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওডিআই ম্যাচ খেলেছে ভারত। ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন রিচা। কিন্তু, এসআইআর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেল অমীমাংসিতের তালিকায় রিচার নাম রয়েছে। শুধু রিচা নয়, তাঁর দিদি সোমাশ্রীর নামও অ্যাপ্রুভড তালিকায় নেই। এমনই দাবি করেছেন রিচার বাবা।
কেন অমীমাংসিতের তালিকায় নাম রয়েছে রিচা ঘোষের? শুনানির নোটিস কি পাঠানো হয়েছিল রিচাকে? রিচার বাবা জানিয়েছেন, কোনও নোটিস পাঠানো হয়নি। তবে, একটি নথি চাওয়া হয় তাঁর বাবার কাছ থেকে। রিচার বাবা বলেন,”কমিশন এর আগে কিছু তথ্য চেয়েছিল। তা জমা দিয়েছিলাম। বার্থ সার্টিফিকেট দিয়েছি। সেটা আপলোডও করা হয়েছিল।” এদিকে, ২০০২-এর তালিকায় রিচার বাবা-মা দুজনেরই নাম রয়েছে। তাহলে কেন রিচার নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না রিচার বাবা-মা।
এদিকে, রিচা ঘোষের বাড়িতে এদিন পৌঁছে যান স্থানীয় ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌসুমি হাজরা। তিনি বলেন ,”যে মেয়ে দেশের হয়ে খেলে,যার পাসপোর্ট আছে তাঁর নাম কেন বিচারাধীন থাকবে? ওর মতো সেলিব্রিটির সঙ্গে যদি এটা হতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কী হতে পারে বোঝাই যাচ্ছে। কী হয়েছে তা দেখার জন্য আমরা কমিশনে অভিযান করব।”
এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাটার্য জানিয়েছেন, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। কমিশনই বিষয়টা খতিয়ে দেখবে।
প্রসঙ্গত এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, অমীমাংসিতের তালিকায় নাম থাকলেই যে তাঁর নাম বাদ হয়ে যাবে, সেরকমটা একেবারেই নয়। অমীমাংসিত তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা এখনও বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। তাঁর নথি খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে ৬০ লাখের বেশি কিছু ভোটার। নথি যাচাইয়ের এরপর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হবে। তারপরই জানা যাবে, অমীমাংসিতের তালিকা থেকে আরও কত নাম বাদ যাচ্ছে।
