
ইসলামপুর: দল ছেড়ে যাওয়া তৃণমূলের সাংসদ ও বিধায়কদের ১৫ দিনের মধ্যে দলে ফিরে আসার আহ্বান জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, দলে নেতার চেয়ে কর্মী-সমর্থকরাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রবিবার ইসলামপুর ব্লকের কমলাগাঁও-সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আয়োজিত মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক সভায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে এই বার্তা দেন নেত্রী।
এদিনের সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় ফোনে যোগাযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তারপর ফোনের স্পিকারের কাছে মাইক্রোফোন নিয়ে গিয়ে মমতার বার্তা শোনান কল্যাণ। কিন্তু শুরুতেই মমতা বলতে শুরু করেন, ‘ওখানে আমাদের প্রার্থী আছেন রবিউল ইসলাম।’ ফুটবলার চিহ্নে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বানও জানান তিনি। এ কথা শুনে কিছুটা অবাক হয়ে যান কল্যাণ। তিনি বুঝতে পারেন, রেজিনগর বলে ভুল করেছেন নেত্রী। মমতাকে থামিয়ে দ্রুত বলেন, ‘দিদি এটা উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া।’ এ কথা শুনে চুপ মমতা। বলেন, এটা মুর্শিদাবাদ নয়? কল্যাণ আবারও বলেন, ‘রেজিনগরের প্রচার তো কাল শেষ হয়ে গিয়েছে। এটা চোপড়া।’ এরপর আবার নতুন করে বার্তা দিতে শুরু করেন মমতা।
এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত বিজেপি সুবিধা পাবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে যে দল তিনি গড়ে তুলেছিলেন, প্রয়োজনে আবারও নতুন করে সেভাবেই সংগঠন গড়ে তুলতে পারবেন।
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর প্রথমবার চোপড়া বিধানসভা ও ইসলামপুর ব্লকের কমলাগাঁও-সুজালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রকাশ্যে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে মমতাপন্থী তৃণমূল। আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ইটাহারের বিধায়ক মোশারফ হোসেন-সহ ইসলামপুর ও চোপড়ার মমতাপন্থী তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।