Siliguri: ভয়ঙ্কর! অগস্টের এক দুপুরে হঠাৎ আসে ফোন, এত বড় সর্বনাশ হবে বুঝতেও পারেননি

শিলিগুড়ির পূর্ব বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দা মনোজ সেনশর্মা। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে দিল্লিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০০৫ এ অবসর নেন তিনি। একমাত্র ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকে। মনোজ সেন শর্মার দাবি, পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর গত ৫ অগস্ট রাতে ফোন আসে। জম্মু কাশ্মীরের একটি থানা থেকে ফোন করা হয় বলে দাবি করা হয়।

Siliguri: ভয়ঙ্কর! অগস্টের এক দুপুরে হঠাৎ আসে ফোন, এত বড় সর্বনাশ হবে বুঝতেও পারেননি
Image Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Feb 13, 2026 | 2:07 PM

শিলিগুড়ি: কলকাতার পর এবার শিলিগুড়ি। ফের একই ঘটনা। একইভাবে প্রতারণার শিকার এক বৃদ্ধ। সরকারি দফতরে উচ্চপদে চাকরি করা মনোজ সেনশর্মাকে এমনভাবে ফাঁদে ফেলা হয়, যে তিনি ধরতেই পারেননি কীভাবে তাঁর ৩৭ লক্ষ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। সারাজীবনের জমানো টাকা উদ্ধার করতে এবার কালঘাম ছুটছে বৃদ্ধের।

সম্প্রতি কলকাতায় এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, কীভাবে ২৫ দিন ধরে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছল তাঁকে। কীভাবে তাঁর থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল ৫৭ লক্ষ টাকা। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে টয়লেটে যেতে গেলেও ভিডিয়ো কলের ওপারে থাকা ব্যক্তিদের থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছিল। এবার শিলিগুড়ির এই বৃদ্ধের সঙ্গেও একই ঘটনা।

পহেলগাঁও-কাণ্ডে যুক্ত জানিয়ে ফেক অ্যারেস্ট করা হয় ওই বৃদ্ধকে, ফের এনআই তদন্তও করে, আর তাতেই ফেঁসে যান ওই বৃদ্ধ। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে শেষ পর্যন্ত সাইবার ক্রাইমের দ্বারস্থ হন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত টাকা ফেরত পাননি তিনি।

শিলিগুড়ির পূর্ব বিবেকানন্দ পল্লীর বাসিন্দা মনোজ সেনশর্মা। সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের আসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে দিল্লিতে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০০৫ এ অবসর নেন তিনি। একমাত্র ছেলে সিঙ্গাপুরে থাকে।

মনোজ সেন শর্মার দাবি, পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর গত ৫ অগস্ট রাতে ফোন আসে। জম্মু কাশ্মীরের একটি থানা থেকে ফোন করা হয় বলে দাবি করা হয়। এটিএস পুনে এবং NIA-এর নামে ফোন যায় তাঁর কাছে। মনোজ সেনশর্মা বলেন, “অগস্টের দুপুরে আমার বাড়িতে একটা ফোন আসে। আমাকে জানানো হয় আমি সন্ত্রাসবাদীদের ডিফেন্স সংক্রান্ত কিছু কাগজপত্র দিয়েছি এবং তাদের আর্থিক সাহায্য করেছি। আমি অস্বীকার করলেও ওরা মানেনা। সেই সময় আমাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। সিজার মেমোসহ নানা নথি পাঠানো হয়। বাড়িতেই ঘরবন্দি থাকতে বলে ওরা।”

এরপর তাঁকে বলা হয়, টাকার হিসেব দেখাতে হবে ও টাকা একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে ট্রান্সফার করতে হবে। তিনি বলেন, “দু’দফায় অবসরের সময়ে পাওয়া প্রায় সাড়ে ৩৭ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করে অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছি। সেই সময়ে এতটাই ভীত হয়ে গিয়েছিলাম। ফলে ভাবনাচিন্তার অবকাশ ছিল না।”

পরে টাকার বিনিময়ে ক্লিনচিট পেয়ে ডিজিটাল অ্যারেস্ট মুক্ত হয়ে বুঝতে পারেন প্রতারিত হয়েছেন। সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ জানান। পুলিশ তদন্তে নেমে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে একজনকে গ্রেফতার করে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করতে পারলেও বাকি টাকা মেলেনি। মূল অভিযুক্তদের কাউকে এখনও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।