
উত্তর ২৪ পরগনা: পারিবারিক বিবাদের জের । ভাইকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল দাদা ও ভাইপোর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে দেগঙ্গা থানার গোবিন্দপুর এলাকায়। মৃতের নাম নিমাই প্রামাণিক(৫১)। জানা গিয়েছে, নদীর ধারে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন নিমাই। অভিযোগ, সেইসময়ই তাঁর উপর বাঁশ, লাঠি নিয়ে হামলা চালান দাদা ও ভাইপো । ঘটনার তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হলেন শৈলেন প্রামাণিক (দাদা) ও গোবিন্দ প্রামাণিক (ভাইপো)। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। তবে পুলিশের গ্রেফতারির আগে গণপিটুনির শিকার হন অভিযুক্ত ভাইপো।
নিমাই ও শৈলেনের বাড়ি দত্তপুকুর থানার পানশিলা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নিমাই ও শৈলেনের বিবাদ। বাবা বেঁচে থাকতে সম্পত্তি ভাগ করেননি। সেই সম্পত্তি নিয়েই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা লেগেই থাকত। মাঝেমধ্যে ঝামেলা হাতাহাতিতেও পৌঁছে যেত।
একাধিকবার স্থানীয় নেতৃত্ব বসে দু’জনের ঝামেলা মেটানোর চেষ্টাও করেন। কিন্তু কাজ হয়নি। জানা গিয়েছে, সোমবার বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে দেগঙ্গায় বিদ্যাধরী নদীর ধারে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন নিমাই প্রামাণিক । সেখানেই ফের দাদা শৈলেনের সঙ্গে নিমাইয়ের গন্ডগোল হয়। দুজনের মধ্যে মারপিটও হয়। সাময়িকভাবে তা মিটে যায়। শৈলেন বাড়ি ফিরে যান। তারপর ছেলে গোবিন্দকে ডেকে নিয়ে যান বিদ্যাধরী নদীর ধারে।
অভিযোগ, তারপরই হঠাৎ নিমাইয়ের উপর বাঁশ নিয়ে হামলা চালানো হয়। মাটিতে ফেলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নিমাই। স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে উদ্ধার করে বারাসত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনায় অভিযুক্ত শৈলেন প্রামাণিককে প্রথমে গ্ৰেফতার করে দত্তপুকুর থানার পুলিশ। অন্যদিকে, ভাইপো গোবিন্দ প্রামাণিক পালিয়ে বাড়িতে শৌচালয়ে লুকিয়ে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে বাথরুম থেকে টেনে রাস্তায় বের করেন। তাঁকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিযুক্তদের ফাঁসি চাইছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে দত্তপুকুর থানার পুলিশ।