Fixed deposit fraud: লক্ষ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিটের নথি-রসিদ সব রয়েছে, ব্যাঙ্কে গিয়ে মাথায় হাত গ্রাহকদের
Customers Allege Fixed Deposit Fraud: অভিযোগ সামনে আসার পর মঙ্গলবার ব্যান্ডেল মোড়ের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক গ্রাহক। তাঁদের দাবি, প্রথমে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ব্যান্ডেল: বেসরকারি ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট (এফডি) করেছিলেন অনেকে। গ্রাহকদের হাতে দেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্কের নাম, কর্মীর এমপ্লয়ি কোড ও স্ট্যাম্প-সহ সার্টিফিকেট এবং রসিদ। পরে ব্যাঙ্কে গিয়ে সেই নথি যাচাই করতে গিয়ে দেখা গেল, সংশ্লিষ্ট এফডির নামে কোনও টাকা জমা নেই। ঘটনায় ব্যাঙ্কের এক কর্মী নিখিল গুপ্তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাটি হুগলির ব্যান্ডেলের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যান্ডেলের ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কে বহু মানুষ তাঁদের সঞ্চিত টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করে আসছিলেন। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের কর্মী নিখিল গুপ্তাই গ্রাহকদের এফডি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তাঁদের টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেন। এফডি করার পর গ্রাহকদের হাতে ব্যাঙ্কের প্যাডে তৈরি সার্টিফিকেট ও রসিদ দেওয়া হত। সেই নথিতে ব্যাঙ্কের নাম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীর এমপ্লয়ি কোড-সহ স্ট্যাম্পও ছিল বলে দাবি গ্রাহকদের।
ব্যান্ডেলের বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ কৌরের বক্তব্য, তিনি প্রায় সাড়ে ২৫ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন। নিখিল গুপ্তার দেওয়া স্ট্যাম্প-সহ সার্টিফিকেটও তাঁর কাছে ছিল। কয়েক দিন আগে সন্দেহ হওয়ায় তিনি ব্যাঙ্কে গিয়ে নথিগুলি যাচাই করান। সেখানেই তাঁকে জানানো হয়, ওই এফডির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাঙ্কের রেকর্ডে কোনও টাকা নেই। বিষয়টি জানার পর কার্যত মাথায় হাত পড়ে তাঁর।
আর এক গ্রাহকের দাবি, তাঁর প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, নিখিল গুপ্তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা নিখিলকে দেখে এফডি করিনি। ব্যাঙ্কের সুনাম এবং বিশ্বাসের উপর ভরসা করেই টাকা রেখেছিলাম। এখন আমাদের দাবি, ব্যাঙ্ক বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমাদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করুক।’’
ব্যান্ডেল মেরি পার্কের বাসিন্দা অনুশ্রী সেনগুপ্তর অভিযোগ, তাঁদের পরিবারের একাধিক সদস্য মিলে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন। তাঁর কাছেও ব্যাঙ্কের প্যাডে তৈরি সার্টিফিকেট এবং স্ট্যাম্প-সহ নথি রয়েছে বলে দাবি। অনুশ্রী বলেন, ‘‘আমরা নিখিলকে দেখে টাকা রাখিনি। ব্যাঙ্কের উপর ভরসা করেই ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলাম। এখন কীভাবে টাকা ফেরত পাব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’’
অভিযোগ সামনে আসার পর মঙ্গলবার ব্যান্ডেল মোড়ের কাছে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক গ্রাহক। তাঁদের দাবি, প্রথমে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ঘটনায় নিখিল গুপ্তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কত জন গ্রাহক এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং মোট কত টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
