Hooghly: আলুর দাম না পেয়ে হাহাকার, ভোটে কি প্রভাব পড়বে? ক্ষোভ উগরে যা বললেন কৃষকরা…

Potato price: তৃণমূলের রাজ্য আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সভাপতি স্বপন সামন্ত বলেন, "রাজ্য সরকার সর্বদা চাষিদের পাশেই আছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। যারা হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, তারা বিজেপির লোক।"

Hooghly: আলুর দাম না পেয়ে হাহাকার, ভোটে কি প্রভাব পড়বে? ক্ষোভ উগরে যা বললেন কৃষকরা...
আলুর দাম নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন চাষিরাImage Credit source: TV9 Bangla

| Edited By: সঞ্জয় পাইকার

Mar 09, 2026 | 7:48 PM

হুগলি: মাঠে ভর্তি আলু। স্তূপ করে রাখা। চাষিরা ব্যস্ত। কিন্তু, আলুর দাম কই? মাঠে আলু তুলতে তুলতেই হাহাকার হুগলির কৃষকদের গলায়। আলুর দাম না পেয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দিচ্ছেন তাঁরা। বলছেন, গলায় দড়ি দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই। আর কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। চাষিরা বলছেন, ভোটে কৃষকদের এই দুর্দশার প্রভাব পড়বে। বিধানসভা ভোটে হিসাব বুঝে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন হুগলির কৃষকরা।

বাংলার মধ্যে কৃষি প্রধান জেলা হিসাবে পরিচিত হুগলি। আলু, ধান, পাঠ, তিল, সরষে থেকে সব্জি, প্রায় সব ধরনের চাষই করেন হুগলির কৃষকরা। ধান উৎপাদনে বর্ধমানের পরই দ্বিতীয় স্থানে হুগলি। আলু উৎপাদনে প্রথম। হুগলিতে চাষ উপযোগী জমির পরিমাণ ২ লক্ষ ১০ হাজার হেক্টর। যার মধ্যে ধান উৎপাদনের জন্য উপযোগী জমির পরিমাণ ১ লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর। আলু উৎপাদনের জন্য উপযোগী জমির পরিমাণ ৯০ হাজার হেক্টর। এবং বিভিন্ন ধরনের সব্জি উৎপাদন হয় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

বিগত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ।মূলত জেলার অর্থকরী ফসল ধান এবং আলু। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এই দুই চাষে বার বার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েও চাষ করছেন কৃষকরা।

এবছর আলু চাষে বিঘা প্রতি খরচ পড়েছে ৩৫ হাজার টাকার উপর। বিঘা প্রতি আলু উৎপাদ হয়েছে প্রায় ৮০ বস্তা (৫০ কেজি)। রাজ্য সরকার আলুর সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করেছে ৪৭৫ টাকা (৫০ কেজি)। হিসাব অনুযায়ী, সরাকরি সহায়ক মূল্যে চাষিরা আলু বিক্রি করলে হাজার দুয়েক টাকা লাভ দেখতে পাবেন। অভিযোগ, সামান্য সেই লাভের গুড় খেয়ে নিচ্ছেন বস্তা ব্যবসায়ীরা। বস্তার দাম ১১ টাকা বেড়ে হয়েছে কুড়ি টাকা। এক বিঘা জমির আলুর জন্য বস্তা কিনতে চলে যাচ্ছে ১৬০০ টাকা। তাহলে সরকারি মূল্যে আলু বিক্রি করলেও লাভ কি আদৌ থাকছে? প্রশ্ন চাষিদের।

আবার ১ মার্চ থেকে সহায়ক মূল্যে আলু কেনার কথা থাকলেও এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সরকারের তরফে আলু কেনার কোনও তোড়জোড় নেই বলে অভিযোগ। অন্যদিকে এই সুযোগকে কাজিয়ে লাগিয়ে আলু কিনতে চাইছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে বর্তমানে আলুর দাম বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকার উপর উঠছে না।

এই অবস্থায় চাষিদের অবস্থা একেবারে নাজেহাল। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন। শেখ ইনতার হোসেন নামে এক কৃষক বলেন, “চাষিদের কোনও মূল্য দেয় না সরকার। পণ্যের দাম নেই। চাষির একমাত্র ভাতা এখন গলায় দড়ি দেওয়া। রাজ্য সরকার এটাই পরিকল্পনা করছে।” এরপরই তাঁর হুঁশিয়ারি, “বিধানসভা ভোটে প্রভাব তো পড়তেই হবে। আমরা আলু বেচতে পারিনি। গলায় দড়ি দেওয়া ছাড়া পথ নেই। এত বছর তো সরকারকে ভোট দিয়েছি। চাষিরা কি সুবিধা পেয়েছে?”

শেখ নুরুল ইসলাম নামে আর এক কৃষক বলেন, “এই সরকার আমাদের দরকার নেই। ১৮০ টাকা বস্তা আলু। তাও কেউ কিনছে না। গলায় দড়ি দেওয়ার পয়সাও নেই। সরকার আমাদের গলায় দড়ি দেওয়ার পয়সা দিক। বাইরে আলু পাঠাতে দিল না। বিধানসভা নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে।” ক্ষোভ উগরে দিলেন শেখ রিজাউল, শেখ মশিয়ার আলি, শেখ শাহাবুদ্দিন, সনৎ দলুইয়ের মতো চাষিরা।

যদিও তৃণমূলের আলু ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি, রাজ্য সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে রয়েছে। তৃণমূলের রাজ্য আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য সভাপতি স্বপন সামন্ত বলেন, “রাজ্য সরকার সর্বদা চাষিদের পাশেই আছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। যারা হুঁশিয়ারি দিচ্ছে, তারা বিজেপির লোক।”

এদিকে, এদিন সরকারিভাবে আলুর কুইন্টাল প্রতি সহায়ক মূল্য বৃদ্ধি ও সকল আলু চাষির কাছ থেকে আলু কেনার দাবিতে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় আলু ঢেলে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ দেখালেন আলু চাষিরা। গোঘাটের শান্তিপুর এলাকায় বদনগঞ্জ-আরামবাগ রাজ্য সড়কে পথ অবরোধ করেন তাঁরা। আলু চাষিদের দাবি, সর্বনিম্ন ১২০০ টাকা কুইন্টাল হিসাবে সরকারকে আলু কিনতে হবে চাষিদের কাছ থেকে।

Follow Us