Naushad Siddiqui: নন্দীগ্রামে বড় খেলা হবে, সিপিএম-কেও ছাড়ল না আইএসএফ, আর কোথায় কোথায় লড়ছেন নওশাদরা?
West Bengal assembly election: এদিন আইএসএফের ঘোষণায় নন্দীগ্রাম নিয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়াল। নন্দীগ্রামে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে। আর সিপিএম আসনটি সিপিআইকে ছেড়েছে। বামফ্রন্ট ঘোষণা করেছে, নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শান্তি গিরি। এখন আইএসএফ-ও জানিয়ে দিল, তারা নন্দীগ্রামে লড়াই করা নিয়ে অনড়। বামেদের প্রার্থী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাল।

হুগলি: ছাব্বিশের নির্বাচনে কতগুলি আসনে প্রার্থী দেবে আইএসএফ? বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হবে? বেশ কয়েকদিনের জল্পনা শেষে অবশেষ শুক্রবার আইএসএফ জানিয়ে দিল, কতগুলি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে তারা। বামেদের সঙ্গে ২৯টি আসন নিয়ে সমঝোতার কথা জানালেন আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। এদিন ওই ২৯টি আসনের ঘোষণা করল আইএসএফ। বামেরা প্রার্থী ঘোষণা করলেও আরও চারটি আসনে তাঁরাও প্রার্থী দেবেন বলে এদিন জানিয়ে দিলেন নওশাদরা। তাঁর মধ্যে অন্যতম নন্দীগ্রাম। ভাঙড়ে বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী-ই প্রার্থী হচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। অর্থাৎ এবার ভাঙড়ে তৃণমূলের শওকত মোল্লার সঙ্গে লড়াই হবে আইএসএফের নওশাদের।
এদিন কোন কোন আসনে তাঁরা প্রার্থী দেবেন, তা জানাতে গিয়ে শুরুতেই আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ বলেন, “অবশেষে বামেদের সঙ্গে আমরা বেশ কিছু আসনে সমঝোতা করতে পেরেছি। একাধিকবার চিঠির আদানপ্রদান, আলিমুদ্দিনে আলোচনার পর ঐকমত্যে পৌঁছেছি। বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে আসন নিয়ে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছি। বামেদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যে আসনগুলিতে সমঝোতা হয়েছে, সেই আসনগুলির কথা আজ ঘোষণা করা হচ্ছে।”
এরপরই আইএসএফের কার্যনির্বাহী সভাপতি সামসুর আলি মল্লিক বলেন, “মালদহ জেলায় দুটি বিধানসভা আসনে আমরা লড়াই করছি। মোথাবাড়ি এবং সুজাপুরে। মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ এবং হরিহরপাড়ায় আমাদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়া। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর, আমডাঙা, মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, বসিরহাট উত্তর, বাদুড়িয়া। আর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী, কুলপি, মন্দিরবাজার, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ভাঙড়। হাওড়া জেলায় দুটি বিধানসভা আসনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। উলুবেড়িয়া পূর্ব ও জগৎবল্লভপুর। হুগলি জেলার দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। হরিপাল ও খানাকুল। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি। পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনি। বীরভূম জেলার বোলপুর। এই মোট ২৯টি কেন্দ্রে আলোচনার ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌঁছেছি। খাম চিহ্নে আইএসএফ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “আরও কয়েকটি আসনে বামফ্রন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছিল। পাঁশকুড়া পশ্চিম, নন্দীগ্রাম, ভগবানগোলা এবং মুরারই। ইতিমধ্যে বামেরা সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু, এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। এটা বামেদের আমরা পত্র মারফত, ইমেল মারফত জানিয়েছি। এই চারটে আসনে যাতে বামেরা প্রার্থী না দেয়, সেই আবেদন করছি।” নওশাদও বলেন, “বামেরা যাতে এই চারটে আসনে প্রার্থী না দেয়, সেই আবেদন আবার জানাচ্ছি।”
আইএসএফের প্রার্থী তালিকা কবে প্রকাশ হবে? এই নিয়ে নওশাদ বলেন, “আগামিকাল ইদ উদযাপন। স্বাভাবিকভাবে মানুষ উৎসবের মেজাজে রয়েছেন। ইদের পর পরই আমরা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করব।”
তবে এদিন আইএসএফের ঘোষণায় নন্দীগ্রাম নিয়ে নতুন করে জল্পনা ছড়াল। নন্দীগ্রামে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন বিদায়ী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে। আর সিপিএম আসনটি সিপিআইকে ছেড়েছে। বামফ্রন্ট ঘোষণা করেছে, নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শান্তি গিরি। এখন আইএসএফ-ও জানিয়ে দিল, তারা নন্দীগ্রামে লড়াই করা নিয়ে অনড়। বামেদের প্রার্থী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাল।
