
আরামবাগ: ‘আমার মনে হয় আমাদের আবার কোর্টে যাওয়া উচিত’, আরামবাগের সভা থেকে একরাশ উৎকণ্ঠা নিয়ে বললেন মমতা। একইসঙ্গে তুলোধনা করলেন কমিশনের। তুলোধনা করলেন বিজেপির। গোটা পরিস্থিতিকে তুলনা করলেন লঙ্কা কাণ্ডের সঙ্গে। মনে করালেন অসমের এনআরসি-র কথা। অতীত টেনে এনে ফের একবার বিজেপির রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে খোঁচা দিয়ে বললেন, “অসমে একটা এনআরসি করেছিল ৬ বছর আগে। তাতে ১৯ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়েছিল। তার মধ্যে ১৩ লক্ষ হিন্দু বাঙালি ছিল। আর ৬ লক্ষ মুসলিম বাঙালি ছিল। আসলে বিজেপি ভুলে গিয়েছে, লঙ্কায় আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে। লঙ্কা কাণ্ড করেছে, ল্যাজে আগুন দিয়ে বেড়াচ্ছে। কে বিজেপি, কে তৃণমূল কংগ্রেস দেখে দেখে কার কার ভোট কাটা যায় সেটা দেখছে।”
তাহলে কী ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস? দলের সুপ্রিমোর কথায় অন্তত তেমনই ইঙ্গিত। একগুচ্ছ প্রশ্ন তুললেন ট্রাইব্যুনাল নিয়েও। বললেন, “মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে তাহলে ট্রাইবুনালের দরকারটা কী শুনি! কেন ট্রাইবুনাল তৈরি করেছিলেন?” এরমাঝেই তাঁর সংযোজন, “সবার নাম তো উঠবে আজ নয় কাল। ৩২ লক্ষ লোকের নাম তুলে দিয়েছি কোর্টে কেস করে। আমি নিজে গিয়েছিলাম সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু মনে রাখবেন এখনও অনেক লোকের নাম তোলা বাকি আছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করলে যেগুলো বিচারকরা বাতিল করেছেন সেগুলি বিবেচনা করা হবে। কিন্তু তার আগে কেন ফ্রোজেন করে দিল এটা আমার মাথায় ঢুকছে না। আমি একটু বোকা হতে পারি, বুদ্ধি কম হতে পারে। কিন্তু একজন আইনজীবী হিসাবে আমার মনে হয় আমাদের আবার কোর্টে যাওয়া উচিত এবং আমরা করব।”
যদিও জয়ের ব্যাপারে যে তিনি রীতিমতো আত্মবিশ্বাসী তাও বলতে ভুললেন না। তুললেন হাইভোল্টেজ ভবানীপুরের প্রসঙ্গ। রীতিমতো প্রত্যয়ের সুরে বললেন, “এবার যে পরিস্থিতি নির্বাচন হচ্ছে তা সংঘাতিক। আমার বিধানসভা ক্ষেত্রেই তো প্রায় ৬২ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না।”