
চুঁচুড়া: দলের সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কি দ্বন্দ্বের অবসান হল চুঁচুড়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের? শুক্রবার চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যর সঙ্গে প্রচারে বেরিয়ে সেই বার্তাই দিলেন বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক। দেবাংশুকে নিয়ে এলাকায় ঘোরার ফাঁকেই জানিয়ে দিলেন, রচনার সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের অধ্য়ায় সমাপ্ত। এমনকী, দল বললে রচনার সঙ্গে প্রচারেও বেরবেন বলে জানিয়ে দিলেন। তিনি চান, রচনাও দেবাংশুর হয়ে প্রচারে নামুন।
এদিন দেবাংশুকে নিয়ে কোদালিয়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচারে নামেন অসিত মজুমদার। চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ও বিদায়ী বিধায়ক অসিতের উপর ফুল ছড়িয়ে, মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান তৃণমূল কর্মীরা। এদিন খোশমেজাজেই দেখা যায় বিদায়ী বিধায়ককে। সেখানেই হুগলির সাংসদ রচনাকে নিয়ে মুখ খোলেন অসিত। দেবাংশুকে জিতিতে আনাই মূল লক্ষ্য বলে জানান। তারপরই রচনার সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিয়ে তিনি বলেন, “ওটা একটা অধ্যায়। সেই অধ্যায় সমাপ্ত হয়েছে। উনি আমাদের দলের সাংসদ। আমি চাই, রচনাও দেবাংশুর হয়ে প্রচার করুন।”
এবার কি রচনার সঙ্গে তাঁকে একসঙ্গে প্রচারে দেখা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে অসিত বলেন, “দল যদি বলে নিশ্চয়ই একসঙ্গে প্রচার করব। রচনা অনেক বড় সেলিব্রিটি। সারা বাংলায় ঘুরতে হবে। উনি সময় পেলে দল বললে একসঙ্গে নিশ্চয় হাঁটব।”
প্রসঙ্গত, চুঁচুড়ায় টিকিট না পেয়ে রচনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন বিদায়ী বিধায়ক। এরপর গত ২৯ মার্চ সাংবাদিক বৈঠক ডেকে হুগলির সাংসদকে বেনজির আক্রমণ করেছিলেন। বলেছিলেন, “দেবাংশু হারবে যদি রচনা ওর সঙ্গে প্রচারে ঘোরে।” কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ তুলেও দলের সাংসদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন অসিত। খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, “রচনার দম থাকলে নির্দল হয়ে দাঁড়াক। আমিও নির্দল হয়ে দাঁড়াব। যদি না হারাতে পারি, মাথা মুড়িয়ে হুগলি জেলায় ঘুরব।” তাঁর টিকিট না পাওয়ার পিছনে রচনারই হাত আছে বলে দাবি করেছিলেন অসিত। বলেছিলেন, “ও দিদির কান ভারী করেছে। তাই দল প্রার্থী করেনি।” রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অভিযোগ হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
অসিতের অভিমান ভাঙাতে আসরে নামেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অসিত, দেবাংশু, যুব নেত্রী প্রিয়াঙ্কা অধিকারী, মহিলা সভানেত্রী মৌসুমি বসু চট্টোপাধ্যায়দের নিয়ে বৈঠক করেন। তাতেই বরফ গলেছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।