
হুগলি: হাইভোল্টেজ বিধানসভা কেন্দ্র হল উত্তরপাড়া। এবার সেই উত্তরপাড়ায় একদিকে যেমন সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, তেমনই কল্যানপুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করবেন, আবার বিজেপির তরফে টিকিট পেয়েছেন প্রাক্তন NSG কমান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। এবার সেই উত্তরপাড়ায় কল্যাণের ছেলের বিরুদ্ধে পড়ল পোস্টার। ব্যঙ্গ করে লেখা হয়েছে, “খোকা এখনও বাপ ছাড়া একা রাস্তায় বেরতে শেখেনি, তিনি নেবেন উত্তরপাড়ার মানুষের দায়িত্ব।” এই নিয়ে বিজেপির দাবি, তৃণমূলের কর্মীরাই এই পোস্টার দিয়েছে। তবে, শীর্ষণ্য এর পিছনে সিপিএম-কেই দায়ী করেছেন।
আজ অর্থাৎ শনিবার হিন্দমোটর রবীন্দ্রনগর, বিধানপার্ক সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পোস্টার লক্ষ্য করা যায়। পোস্টারে লেখা ছিল, ‘খোকা এখনও বাপ ছাড়া। একা রাস্তায় বের হতে শেখেনি, সে নেবে উত্তরপাড়ার মানুষের দায়িত্ব?’ নীচে লেখা উত্তরপাড়া কল্যাণ পরিষদ। তবে এই পোস্টারে কোনও রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রতীক নেই। কে বা কারা এই পোস্টার দিল তাও জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সেই ছবি। আর এই পোস্টারকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
উল্লেখ্য, উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে শীর্ষণ্য প্রার্থী হতেই দেখা গিয়েছে তাঁর প্রচারে নেমেছিলেন বাবা কল্যাণ। ছেলের হয়ে একাধিক সভা থেকে সওয়াল করেছিলে তিনি। এমনকী, সিপিএম-কে ক্রিমিনালের সঙ্গেও তুলনা করতে শোনা গিয়েছিল কল্যাণকে। এরপর আজ এই ধরনের পোস্টারে নিতান্তই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বিজেপি নেতা প্রণয় রায় বলেন, “তৃণমূলের কর্মীরা এই পোস্টার দিয়েছে। বাবার কেমন ব্যবহার সেটা তৃণমূলের কর্মীরাই জানে। তার ছেলে নাকি তাঁর থেকেও এককাঠি উপরে। উত্তরপাড়ায় কোন খোকাবাবু কোন খুকুমণি নয় ,উত্তরপাড়ায় একজন সৈনিক এসেছেন । তিনি এতদিন দেশের সৈনিক হিসেবে লড়াই করেছেন। এবার উত্তরপাড়ায় মানুষের জন্য গণতান্ত্রিকভাবে মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করবেন। একজন প্রার্থী তার পরিচয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে হতে পারে না। তার একটা নাম রয়েছে। তার একটা পরিচিত হওয়ার কথা।”
পাল্টা তৃণমূল প্রার্থী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “পোস্টারে আমার নাম নেই। তবুও যদি ধরে নিই ওই পোস্টারটা ফেসবুকে যিনি দিয়েছেন শতরূপ ঘোষ। নির্বাচনে তিনবার নিজের কেন্দ্রে গো হারা হেরেছেন । গতবার নির্বাচনে চল্লিশ হাজার ভোট পাননি। উনি আগে নিজের ভোটরকে পাওয়ার চেষ্টা করুন। সমাজ মাধ্যমে যতগুলো ভিউজ পান ততগুলো ভোট পান না। লোকসভা নির্বাচনেও সিপিএম প্রার্থীর দীস্পিতা ধর। ২ লক্ষ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছেন। সেখানে বর্তমান তৃণমূল সাংসদ ৬ লক্ষ ৭০ হাজার ভোট পেয়েছেন। বামেরা হল সোশ্যাল মিডিয়া ওরিয়েন্টেড পার্টি। নিচু তলায় তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। তারা যা ইচ্ছা তাই বলুক। এতে আমার ভোট বাড়বে। কমবে না। কে কার হাত ধরে এসেছে?”
উত্তরপাড়ার প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ বলেন, “রুচিহীন রাজনীতি যারা করছেন তারাই এগুলোর উত্তর দিতে পারবেন। এসবের মধ্যে আমরা নেই। আমরা মানুষের জন্য লড়ছি। মীনাক্ষীকে সামনে রেখে বিধানসভায় মানুষের কথা তুলে ধরতে।”