Rachna Banerjee: তৃণমূল জিতলে কী করতেন? জানিয়ে দিলেন রচনা, মুখ খুললেন আরবানা নিয়েও
Rachna Banerjee TMC remark: তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার কারণ নিয়ে রচনা বলেন, "সাংসদ হওয়ার পর প্রথম প্রথম কাজ করতে পারতাম না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন, কেন্দ্র টাকা দেয় না। তোমরা চেষ্টা করো। আবার আমরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে যেতে পারতাম না। তারপরও আমি অনেকের কাছে গিয়েছি।"

চুঁচুড়া: বিধানসভায় ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পরই দল বদলেছেন তিনি। ঘাসফুল শিবির ছেড়ে যোগ দিয়েছেন NCPI-তে। কিন্তু, বাংলায় ফের যদি তৃণমূল জিতত? তাহলে তাঁর অবস্থান কী হত? উত্তর দিতে এক মুহূর্ত দেরি করলেন না হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরবানায় থাকা নিয়ে তাঁর মন্তব্যেও বিতর্ক বেধেছিল। তাঁর সেই মন্তব্য নিয়েও শুক্রবার ব্যাখ্যা দিলেন রচনা।
কী বললেন হুগলির সাংসদ?
চুঁচুড়ায় বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের ভারতমাতা পুজোয় এদিন উপস্থিত হয়েছিলেন রচনা। সেখানে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন। কলকাতায় তাঁর আরবানাতে থাকা নিয়ে হুগলির সাংসদ বলেছিলেন, “আরবানাতে থাকতে যোগ্যতা লাগে।” তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে শোরগোল পড়েছিল। এই নিয়ে প্রশ্নের মুখে এদিন তিনি বলেন, “এখন মনে হয়, আরবানা মন্তব্য না করলেই ভালো হত।” তারপরই তিনি বলেন, “আমাকে এক সাংসদ আক্রমণ করেছিলেন। তাই জবাব দিয়েছি।”
তাঁর লড়াই করে বড় হয়ে ওঠার কথা জানিয়ে বলেন, “একটা ছোটো ফ্ল্যাটে থাকতাম। স্বপ্ন দেখতাম আরবানায় থাকার। মা বাবাকে রাখার। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আগে কোনও দিন কাউকে বলিনি। আমিও গড়িয়াহাট থেকে কাপড় কিনি। আমার মা গড়িয়ায় থাকে। আমার মন্তব্য নিয়ে বন্ধুরা কিছু বলেনি। তবে কিছু লোক সমাজ মাধ্যমে বলেছে। এখন মনে হয় আরবানা মন্তব্য না করলেই ভালো হত।”
কেন তৃণমূল ছাড়লেন? কেন এনডিএ-তে যোগ দিলেন? এই নিয়ে রচনা বলেন, “আমার এখনও তিন বছর মেয়াদ আছে। সাংসদ হিসাবে কাজ করতে চাই। অনেক কাজ করেছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজ করব। আমি তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে হাত ধরে নিয়ে এসেছিলেন। আমি সাধারণ মেয়ে নই। মমতাদি বুঝেছিলেন, তাই দিদি নম্বর ওয়ানের সেটে গিয়েছিলেন।”
তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার কারণ নিয়ে রচনা বলেন, “সাংসদ হওয়ার পর প্রথম প্রথম কাজ করতে পারতাম না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতেন, কেন্দ্র টাকা দেয় না। তোমরা চেষ্টা করো। আবার আমরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের কাছে যেতে পারতাম না। তারপরও আমি অনেকের কাছে গিয়েছি। ডবল ইঞ্জিন সরকার দরকার ছিল। না হলে উন্নয়ন হত না। অল্প সময়ে ভালো কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।”
বিজেপি না জিতলে কী তৃণমূলে থাকতেন? প্রশ্ন শুনেই বলে দিলেন, “এবার তৃণমূল জিতলে তৃণমূলেই থাকতাম। তৃণমূল হেরে গিয়েছে বলে দল বদল করেছি। যখন তৃণমূল ছিল, তখনই কাজ করতে পারিনি। দিদিও বলতেন, রাজ্যে টাকা নেই। এখন তৃণমূল হারার পর তিন বছর বসে থাকতে পারতাম না। তাই, কাজ করতে তৃণমূল ছেড়েছি।”
