TMC leaders at CPI(M) office: সিপিএমের রক্তদান শিবিরে চুপিচুপি রক্ত দিলেন TMC নেতারা, মাংস-ভাতও খেলেন, নতুন সমীকরণ দেখছে বিজেপি
Trinamool Leaders Donate Blood at CPI(M) Party Office: সিপিএমের পার্টি অফিসে ঢুকেই লাল পার্টির কমরেডদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন তৃণমূলের দাদারা। এরপর আর কালক্ষেপ না করে সোজা রক্তদানের বেডে! এক হাতে রক্ত দেওয়া চলছে, অন্য হাতে সিপিআইএম নেতাদের সঙ্গে হালকা হাসিমুখের আড্ডা—এমন বিরল দৃশ্য দেখে ততক্ষণে রাস্তার মোড়ের দোকানগুলোতে চা ঠান্ডা হওয়ার জোগাড়।

গোঘাট: লাল পার্টি অফিসে ঘাসফুল নেতা! সিপিআইএমের রক্তদান শিবিরে চুপিচুপি রক্ত দিয়ে আসলেন তৃণমূলের মাতব্বররা। ঝাঁঝালো স্লোগান, মিছিলের হাঁকডাক আর ভোটের লড়াইয়ের সেই চিরপরিচিত বৈরিতা—সব যেন এক মুহূর্তে উবে গেল পার্টি অফিসের সিঁড়ি টপকাতেই! এই ছবি ধরা পড়ল হুগলির গোঘাটে।
বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর থেকেই এলাকায় তৃণমূল নেতাদের টিকির দেখা মিলছিল না। কর্মীদের বক্তব্য, “দাদারা নাকি খুব ব্যস্ত!” কিন্তু সেই ‘ব্যস্ত’ দাদারা হঠাৎ দেখা দিলেন কোথায়? সিপিআইএমের আঞ্চলিক পার্টি অফিসের দোতলায়। কৃষক সভার রক্তদান শিবিরে! তাও আবার শুধুই অতিথি হয়ে দেখতে যাননি, সোজা বেডে শুয়ে হাত বাড়িয়ে রক্তও দিয়ে আসলেন! রক্তদান শেষে কব্জি ডুবিয়ে সিপিআইএম পার্টি অফিসের সামনে মাংস ভাতও খেলেন তৃণমূল নেতারা।
তৃণমূল নেতাদের সিপিআইএম পার্টি অফিসে আগমনে সকাল থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছিল তুঙ্গে। বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা টিভি৯ বাংলার বুম দেখেই সরে পড়লেন। কেউ কেউ মুখ লুকালেন। সিপিআইএমের কৃষক সভার বার্ষিক রক্তদান শিবিরকে ঘিরে শনিবার সকালে লাল পতাকা আর ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়েছিল পার্টি অফিস। কমরেডরা যখন চা-বিস্কুট নিয়ে শিবিরের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নাটকীয় মোড়! লোকচক্ষু বাঁচিয়ে, প্রায় গুটিগুটি পায়ে দোতলার ঘরে হাজির হলেন স্থানীয় তৃণমূলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা।
পার্টি অফিসে ঢুকেই লাল পার্টির কমরেডদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন তৃণমূলের দাদারা। এরপর আর কালক্ষেপ না করে সোজা রক্তদানের বেডে! এক হাতে রক্ত দেওয়া চলছে, অন্য হাতে সিপিআইএম নেতাদের সঙ্গে হালকা হাসিমুখের আড্ডা—এমন বিরল দৃশ্য দেখে ততক্ষণে রাস্তার মোড়ের দোকানগুলোতে চা ঠান্ডা হওয়ার জোগাড়।
এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। মোড়ের চা-দোকানে বসে এক প্রবীণ নাগরিক বলেই ফেললেন, “ভোটের পর থেকে তৃণমূল নেতাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, ভেবেছিলাম জলবায়ু পরিবর্তনে হয়তো কোথাও উধাও হয়ে গিয়েছেন! কিন্তু তাঁরা যে সিপিআইএমের লাল ঝাণ্ডার নিচে রক্ত দান করছেন, তা তো ভূতেও ভাবতে পারেনি।” তবে TV9 বাংলার ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাইলেন না অনেকেই।
এদিকে ঘটনার খবর চাউর হতেই রাজনৈতিক অলিন্দে হাসির রোল। সিপিআইএম শিবিরের একাংশের দাবি, “রক্তের কোনও দলীয় রং হয় না, উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।” অন্যদিকে রক্ত দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় এক তৃণমূল নেতা মুখ গোমড়া করে রসিকতার ছলে বললেন, “আরে ভাই, রক্তদান তো মহৎ কাজ! দলমত ভুলে একটু রক্ত দিলাম, এতে এত অবাক হওয়ার কী আছে?”
রক্তদানের উপকারিতার কথা উল্লেখ করেও তৃণমূল ও সিপিএমকে কটাক্ষ করতে ছাড়ল না বিজেপি। গোঘাটের বিজেপি নেতা সেলিম মণ্ডল বলেন, “রক্তদান মহৎ কাজ। সে সিপিএম, তৃণমূল যেই করুক, ভালো উদ্যোগ। কিন্তু, তৃণমূল নিজেরা এখন রক্তদান শিবির করতে পারছে না। তাই, পিছন থেকে ফান্ডিং করে সিপিএম-কে দিয়ে রক্তদান করাচ্ছে। বাইরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন তৃণমূল নেতারা।” সিপিএম ও তৃণমূলের নতুন আঁতাত বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
এদিন ৫০ জনের রক্ত দেওয়ার কথা ছিল। সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ জন। তৃণমূলের রক্ত আর সিপিআইএমের সিরিঞ্জ, সব মিলিয়ে আজকের রক্তদান শিবির। যা এলাকার রাজনীতির পারদ এক ধাক্কায় বেশ কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিল।
