Hooghly Triveni Crematorium: প্রিয়জনের মৃতদেহ দাহ করতে গিয়েও ভোগান্তি, ত্রিবেণীতে বন্ধ দুটি বৈদ্যুতিক চুল্লিই
Triveni Crematorium Electric Cremation Furnaces: ত্রিবেণী শ্মশানে আরও একটি নতুন চুল্লি তৈরি করার কাজ চলছে। কিন্তু পুরনো দুটি চুল্লি কবে মেরামত হবে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। হুগলি জেলার গুরুত্বপূর্ণ শ্মশান ত্রিবেণী। রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দুটি চুল্লিই বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শোকগ্রস্ত পরিবার। কবে স্বাভাবিক হবে পরিষেবা, তার অপেক্ষায় হাজারো মানুষ।

ত্রিবেণী: এ যেন মৃত্যুর পরও শান্তি নেই। হুগলির ত্রিবেণী মহাশ্মশানে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে দুটি বৈদ্যুতিক চুল্লি। মৃতদেহ সৎকার করতে এসে চরম বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বাধ্য হয়ে অধিক খরচ করে কাঠে দাহ করতে হচ্ছে। তার জেরে এলাকায় কালো ধোঁয়া, বাড়ছে দূষণ। পান্ডুয়া, মগরা, বলাগড়, পোলবা-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখানে আসেন শেষকৃত্য করতে। এমনকি অন্য জেলা থেকেও মৃতদেহ আসে ত্রিবেণীতে। কিন্তু সেই চুল্লিই এখন বন্ধ। বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই বন্ধ ত্রিবেণী মহাশ্মশানের একটি বৈদ্যুতিক চুল্লি। একটি চুল্লিতে কোনওরকমে কাজ চলছিল। সেটিও গত ১৫ দিন ধরে বিকল।
ত্রিবেণী শ্মশানের সাবরেজিস্ট্রার বিকাশ সরুই বলেন, “এখানে দুটি চুল্লি রয়েছে। একটি ভোটের আগে থেকে বন্ধ। আর একটা প্রায় ১৫ দিন হল বন্ধ। প্রশাসনের কাছে আমরা আবেদন করেছি চুল্লিগুলো মেরামত করার জন্য। চিঠিও দিয়েছি। মানুষের সমস্যা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই। এখনও পর্যন্ত মেরামতের কোনও কাজ শুরু হয়নি।”
কী বলছেন মৃতদেহ দাহ করতে আসা লোকজন?
বাঁশবেড়িয়া পৌরসভা গত ২৫ জুন নোটিস দিয়ে জানায়, সামগ্রিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঘাটস্থিত দুটি বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ থাকবে। চুল্লি বন্ধ থাকায় সমস্যায় পড়ছেন গরিব পরিবারগুলি। যাঁরা চাঁদা তুলে মৃতদেহ সৎকার করতে আসেন, তাঁদের বাধ্য হয়ে কাঠে দাহ করতে হচ্ছে। খরচও বাড়ছে কয়েকগুণ। পার্থসারথি মণ্ডল, সঞ্জীব কুন্ডুরা মৃতদেহ সৎকার করতে এসে সমস্যায় পড়েন। তাঁরা জানান, “বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ জানা ছিল না। এসে শুনছি বন্ধ। এখন কাঠের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। চুল্লিতে ১ ঘণ্টায় কাজ হয়ে যেত, কাঠে প্রায় ৩ ঘণ্টা লাগছে। বৃষ্টিতে কাঠ ভিজে গেলে আরও সময় লাগছে।” স্থানীয় বাসিন্দা দীপালি বিশ্বাস বলেন, “বৈদ্যুতিক চুল্লি বন্ধ থাকায় কাঠে পোড়ানো হচ্ছে। প্রচুর ধোঁয়া হচ্ছে। দূষণ হচ্ছে, চোখ জ্বালা করছে। আমাদের থাকতে খুব অসুবিধা হচ্ছে।”
ত্রিবেণী শ্মশানে আরও একটি নতুন চুল্লি তৈরি করার কাজ চলছে। কিন্তু পুরনো দুটি চুল্লি কবে মেরামত হবে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। হুগলি জেলার গুরুত্বপূর্ণ শ্মশান ত্রিবেণী। রক্ষণাবেক্ষণের কারণে দুটি চুল্লিই বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শোকগ্রস্ত পরিবার। কবে স্বাভাবিক হবে পরিষেবা, সেই উত্তরেই তাকিয়ে হাজারো মানুষ।
কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক?
সপ্তগ্রামের বিজেপি বিধায়ক স্বরাজ ঘোষ বলেন, “চুল্লি বন্ধ রয়েছে, সেটা আমি জানি। এর আগে কাজ করানোর জন্য টেন্ডার করেছিল, কিন্তু কাজ করায়নি। একটা চুল্লি বন্ধ ছিল, আর একটা চলছিল। বাঁশবেড়িয়া পৌরসভার যিনি চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি টেন্ডার করেননি। আমি বলেছিলাম, আর একটা চুল্লিকে সাজিয়ে রাখা হোক। আর একটা চুল্লি খারাপ হয়েছে, সেটা আমি শুনেছি। যিনি কন্ট্রাক্টর রয়েছেন, তাঁকে আমি ফোন করে জানিয়েছি। আশা করছি ৫-৭ দিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে। আমরা মানুষের পাশে আছি।”
