
হাওড়া: চেয়ার তুলে মারধর। যুযুধান দুই পক্ষ। ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে শোরগোল পড়ল হাওড়ায়। ঘটনা আন্দুল রোড সংলগ্ন একটি আবাসনের। সেখানে বাসিন্দাদের উপর চড়াও হয়েছিল একদল দুষ্কৃতী। বাসিন্দাদের কথায়, ‘ওরা প্রোমোটারের দলবল।’ ভাইরাল ভিডিয়োর দেখা গিয়েছে, ওই আবাসনের বাসিন্দাদের উপর ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে অন্য পক্ষ। চেয়ার তুলে চলছে মারধর। যদিও ওই আবাসনেই থাকা প্রোমোটারের এক আত্মীয়ের কথায়, ‘প্রথমে ওই বাসিন্দারাই হামলা চালায়।’
বছর দুয়েক আগে হাওড়ার আন্দুল রোডের চুনাভাটিতে একটি অভিজাত আবাসন তৈরি হয়। গোটা আবাসন জুড়ে রয়েছে দু’টি ব্লক। যাতে আবার রয়েছে মোট ৬০টি ফ্ল্যাট। কিন্তু আবাসনের রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়েই মাঝে মধ্যে ওই আবাসনের প্রোমোটার — শেখ সাকিবের সঙ্গে বিবাদ হত আবাসনের বাসিন্দাদের। সেই বিবাদ মেটানোর জন্যই রবিবার দুপুরে বসেছিল বৈঠক।
কিন্তু কথা মেটে না সমস্যা। আকার নেয় তীব্র উত্তেজনার। ফ্ল্য়াটের এক বাসিন্দা প্রদীপ ভট্টাচার্যের অভিযোগ, ‘বৈঠকের মাঝে বাকবিতণ্ডাকে ঘিরে মারমুখী হয়ে ওঠে প্রোমোটারের লোকেরা। হামলা চালায়।’ ইতিমধ্যেই সেই উত্তেজনার ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে সমাজমাধ্যমেও। শুধু তা-ই নয়, প্রদীপ বাবুর অভিযোগ, বৈঠকে উপস্থিত মহিলা সদস্যদের শ্লীলতাহানি করেছে প্রোমোটারের লোকেরা।
এই সংঘাতের জেরে আবাসনের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা গুরুতর জখম হয়েছেন। স্থানীয় একটি হাসপাতালে রক্তাক্ত অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে তাদের। অন্যদিকে, রবিবার দু’পক্ষই পৌঁছে গিয়েছিল নাজিরগঞ্জ থানায়। দায়ের হয়েছে FIR। আপাতত তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তবে আহত বাসিন্দাদের অভিযোগ মানতে নারাজ বৈঠকে উপস্থিত অন্য এক বাসিন্দা। নাম ওয়াসিম আক্রম। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়াসিম প্রোমোটারের আত্মীয়। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে প্রোমোটার নয়, বরং বৈঠকে উপস্থিত ফ্ল্যাটের অন্য বাসিন্দারাই হামলা চালিয়েছিল।