
প্রদীপ্তকান্তি ঘোষ
কলকাতা ও হাওড়া: আটকে নির্বাচন। তা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। এই আবহে শনিবার বিধানসভায় হাওড়া পৌরনিগমের ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে হাওড়া পৌরনিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০। তা বাড়িয়ে ৬৬ করা হবে। সেই জন্যই আনা হচ্ছে এই সংশোধিত বিল। বারবার ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো-কমানোর প্রক্রিয়া হলেও দীর্ঘদিন ভোট না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন নাগরিক থেকে বিরোধীরা।
হাওড়া পৌরনিগমে শেষ বার পৌর নির্বাচন ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়। যার মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হয়। দীর্ঘদিন পৌর নির্বাচন আটকে। পুর প্রশাসক মণ্ডলী বসিয়ে চলছে হাওড়া পৌরনিগমের কাজকর্ম। এরই মাঝে ২০১৬ সালে হাওড়া পৌরনিগমের ৫০টি ওয়ার্ডের সঙ্গে বালি পৌরসভার অন্তর্ভুক্তি করা হয়। তৎকালীন বালি পৌরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ১৬টি ওয়ার্ড করে হাওড়া পৌরনিগমের সঙ্গে জুড়ে ওয়ার্ড সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৬। এরপরই ২০১৯ সালে আবার বালি পৌরসভাকে ছেড়ে দেয় হাওড়া পৌরনিগম। তৎকালীন রাজ্যপাল ও রাজ্য পুর বিল সংক্রান্ত সংঘাতের মাঝে আইনি জটিলতায় পৌর ভোট নিয়ে টানাপোড়েন শুরু হয়।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন পৌর নির্বাচন না হওয়ায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় হাওড়া পৌরনিগমের বেহাল দশা নাগরিকদের বক্তব্যে উঠে আসে। বিরোধীরাও বারবার পৌর নির্বাচনের দাবি তুললেও নির্বাচন নানা আইনি জটিলতায় বিশ বাঁও জলে। আবারও সেই হাওড়া পৌরনিগমের ৫০টি ওয়ার্ডের ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৬৬টি করার চিন্তাভাবনা করেছে রাজ্য সরকার।
পৌর পরিষেবা থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ তুলে নাগরিকরা চাইছেন, দ্রুত পৌরসভার নির্বাচন হোক। এবং হাওড়া পৌরনিগমের পৌর নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক করা হোক। বিরোধী বিজেপি থেকে সিপিএম সকলেই বলছে, রাজ্য সরকার আবার হাওড়া পৌরনিগম নিয়ে মানুষকে ভাঁওতা দিতে নেমে পড়েছে। বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ সিং দাবি করলেন, এই রাজ্য সরকারের হাওড়া পৌরনিগমের নির্বাচন নিয়ে সদিচ্ছার অভাব একেবারে স্পষ্ট। বিরোধীদের দাবি, অবিলম্বে হাওড়া পৌরনিগমের নির্বাচন হোক। নাগরিকরা তাঁদের ন্যায্য নাগরিক পরিষেবা ফিরে পাক।