
হাওড়া: মর্মান্তিক। বহুতল থেকে ভারী লোহার রড নিচে পড়ে মৃত্যু হল দুই ব্যক্তির। মঙ্গলবার দুপুরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া পৌরনিগম সংলগ্ন একটি বহুতলে। মৃতদের নাম শেখ ইরফান ও খোকন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হাওড়া থানার পুলিশ। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে তারা।
জানা গিয়েছে, হাওড়া পৌরনিগমের নিকটবর্তী ট্রেড সেন্টারের সিঁড়ি ঘরে রডের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল সকাল থেকে। ঢালাইয়ের সময় আচমকা একটি ভারী লোহার রড নিচে পড়ে যায়। সেইসময় ওই বহুতলের নিচে কয়েকজন ছিলেন। দু’জনের উপর ভারী রডটি পড়ে। তাতেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই ট্রেড সেন্টারে ব্যবসায়ীদের অনেকে নিজেদের সামগ্রী রাখেন। এদিন হাওড়ার মঙ্গলাহাটের বাজার বসেছিল। টুপি ব্যবসায়ী শেখ ইরফান তাঁর সামগ্রী রাখতে মুটে খোকনকে নিয়ে ওই বহুতলের নিচে এসেছিলেন। তখনই তাঁদের উপর পড়ে ভারী রডটি। গুরুতর জখম হন তাঁরা। দু’জনকে হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
লোহার রড পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের
দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে আসে হাওড়া থানার পুলিশ। ওই বহুতলের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে ছড়ানো রয়েছে লোহার রড-সহ অন্য সামগ্রী। কোনও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ চলছিল বলে জানা গিয়েছে। কোনও সেফটি নেট লাগানো হয়নি। কীভাবে সেফটি নেট ছাড়া কাজ চলছিল, সেই প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের বক্তব্য, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তারা।
মৃত শেখ ইরফানের ভাই শেখ ইসলাম বলেন, “আমরা জিনিসপত্র রাখতে এসেছিলাম। আমিও ওখানে ছিলাম। আমার দাদা ও খোকনের মাথায় পড়ে লোহার রডটি। তখন উপর থেকে শ্রমিকরা তাকিয়ে দেখে কী হয়েছে। কিন্তু, কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি। প্রায় ২০ মিনিট পর পুলিশ আসে। তারপরই ২ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।” কোনও নিরাপত্তা ছাড়াই কীভাবে ছাদে কাজ হচ্ছিল, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।