
জলপাইগুড়ি: তিস্তার চরে গরু আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ। একা মহিলাকে ভর সন্ধ্য়ায় নদীর চরে পেয়েই শুরু হয় পৈশাচিক অত্য়াচার। অভিযোগ, টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় পাশের ভুট্টা ক্ষেতে। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত। যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। দ্বৈরথ নামিয়েছে শাসক-বিরোধী।
ঘটনা জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বোয়ালমারি নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের। সেখানে স্থানীয় প্রধান পাড়াতেই থাকতেন নির্যাতিতা। বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তার চরে খুঁটিতে বেঁধে রাখা গরু আনতে গিয়েছিলেন তিনি। সূর্য ডুবলে চরের ধারের কেউ বিশেষ যায় না। সেই সময়কেই ব্য়বহার করেন অভিযুক্ত। বুধবার সন্ধ্যার ঘটনা। থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। তারপরেই তদন্তে নেমেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। অভিযুক্ত পলাতক।
এদিন নির্যাতিতার স্বামী বলেন, “এই ছেলেটা (অভিযুক্ত) একদম ভালো নয়। ওর বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ তোলা হয়েছিল। অন্য মহিলাদেরকেও বিরক্ত করত।” তবে এই ঘটনায় চড়েছে রাজনৈতিক পারদ। বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল। কিন্তু এর সঙ্গে তাঁদের যোগ কী? এদিন এলাকার যুব তৃণমূল ব্লক সভাপতি প্রসেনজিৎ লালা বলেন, “এই ঘটনার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই। কোতোয়ালি থানাতেও অভিযোগ জানিয়েছি। যত দূর জানি, ছেলেটা বিজেপির সমর্থক। এলাকায় বিজেপির পতাকা হাতে ঘুরে বেড়ায়। আগেই একাধিকবার এই রকম কাজ করেছে। এফআইআরও হয়েছিল। কিন্তু ওর বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি তা জানা নেই।”
তৃণমূলের অভিযোগ একেবারে ফুৎকার দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের মণ্ডল সভাপতি মনোজ শা বলেন, “আমরা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার দাবী জানাচ্ছি। তবে এই ধরনের নোংরা কাজে বিজেপির কেউ যুক্ত নয়। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে বিজেপির কোনও পদাধিকারী নয়। তবে বিজেপিকে সমর্থন করে এমন কোটি কোটি মানুষ আছে। তাদের কুকর্মের দায় বিজেপি কেন নেবে? আসলে ভোটের মুখে বিজেপিকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে তৃণমূল। লাভ নেই। মানুষ সব বোঝে।”