Jalpaiguri Awas Yojana: উধাও কোটি কোটি টাকা, আবাস যোজনার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তৃণমূল জমানার ‘ভূত’
Awas Yojana Fraud: দেখা যাচ্ছে তৃণমূল আমলে গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের একের পর এক বাসিন্দার জব কার্ড নম্বর ব্যবহার করে জেলার অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা ঘর পেয়ে গিয়েছে। বুথ পিছু অন্তত কুড়ি জন এইভাবে প্রতারিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে দুই শতাধিক মানুষ এইভাবে প্রতারিত হয়েছেন বলে আশঙ্কা।

জলপাইগুড়ি: পঞ্চায়েতস্তরে জামতাড়া গ্যাংয়ের ধাঁচে জালিয়াতি? পাসওয়ার্ড হাতিয়ে আবাসের কয়েক কোটি টাকা হাতানো হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ির গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে এমনই অভিযোগ উঠেছে। অনেকের প্রশ্ন, একটা পঞ্চায়েতে এমন কারচুপি হলে জেলায় জালিয়াতির অঙ্ক কত? জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসার পর শুক্রবার বিডিও-র কাছে অভিযোগ জানান প্রতারিতরা।
নতুন সরকারের তরফে ফের আবাস প্রকল্প চালু করার ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি বছরের ৩১ অগস্টের মধ্যে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে আবাস নিয়ে বাড়ি বাড়ি সার্ভে শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। সেই সার্ভে করতে গিয়ে বড়সড় দুর্নীতি সামনে এসেছে। যা দেখে কার্যত হতাশায় ভেঙে পড়েছেন উপভোক্তারা।
যেসব তথ্য উঠে এসেছে-
দেখা যাচ্ছে তৃণমূল আমলে গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের একের পর এক বাসিন্দার জব কার্ড নম্বর ব্যবহার করে জেলার অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা ঘর পেয়ে গিয়েছে। বুথ পিছু অন্তত কুড়ি জন এইভাবে প্রতারিত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে দুই শতাধিক মানুষ এইভাবে প্রতারিত হয়েছেন বলে আশঙ্কা।উপভোক্তা পিছু ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হলে দুর্নীতি হওয়া এই টাকার পরিমাণ ৩ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতারিতদের আবেদন-
যে জব কার্ড নম্বর ব্যবহার করে একবার আবাস প্রকল্পে ঘর দেওয়া হয়েছে তিনি আর সরকারি ঘর পাবেন না। তাঁদের প্রত্যেকের ঘড় ভাঙাচোরা। নতুন ঘর না পেয়ে সমস্যায় পড়েছেন। তাই তাঁদের আবেদন, প্রশাসন তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করুক। তদন্ত করুক। দোষীরা শাস্তি পাক। ৩১ অগস্টের মধ্যে তাঁরা যাতে ঘর পান, সেই ব্যবস্থা করুক।
গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত সংক্রান্ত তথ্য-
এই গ্রাম পঞ্চায়েতে বুথ রয়েছে ১৭টি। জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। SIR-র পর ভোটার প্রায় ১৭ হাজার। যাঁরা প্রতারিত হয়েছেন, তাঁরা তৃণমূলের সমর্থক বলে জানা গিয়েছে। নিজের দলের লোকেদের দ্বারা নিজেরাই প্রতারিত হয়ে অকুলপাথারে পড়েছেন এইসব গরিব মানুষ।
জানা গিয়েছে, প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতের জন্য আলাদা আলাদা ইউনিক পাসওয়ার্ড রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, এক গ্রাম পঞ্চায়েতের পাসওয়ার্ড কীভাবে জেলার অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতে ব্যবহার করে এই দুর্নীতি হল? তাহলে এর পেছনে কি জেলা বা রাজ্যস্তরের গ্যাং জড়িত? ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শান্তি এবং প্রতারিতদের সুরাহা করার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল বুথ সভাপতি আনসার রহমান বলেন, “কীভাবে হল আমরা জানি না। যারা জড়িত, তারা শাস্তি পাক।”
গড়ালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অফিসার প্রবীর মজুমদার বলেন, “আমি এখানে নতুন এসেছি। এক মাস হয়েছে। আমি বিষয়টি জানতে পেরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। তবে আমি যতদূর জানি, এভাবে একটা গ্রাম পঞ্চায়েতের টাকা অন্য গ্রাম পঞ্চায়েতে যায় না।”
অন্যদিকে, BJP পরিচালিত জলপাইগুড়ি সদর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শান্তিরঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “আবাসকাণ্ডে অভিযোগ প্রমাণ হলে প্রাপক তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হবে। ফেরত দিতে হতে পারে পুরো ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।” এদিন প্রতারিত গ্রামবাসীরা গ্রাম পঞ্চায়েতে সুরাহা না পেয়ে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দ্বারস্থ হন। বিডিওর কাছে তাঁরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
