
হলদিবাড়ি: স্বামী হাত ছাড়তেই কোনওক্রমে সবজি বিক্রি করে পেট চালাতেন। তাতেই কোনওভাবে হয়ে যাচ্ছিল দিন গুজরান। কিন্তু এসআইআর শুরু হতেই তাল কাটল। উপযুক্ত প্রমাণপত্র না থাকায় বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের হলদিবাড়ি ব্লকের দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। বৃহস্পতিবারই ওই মহিলাকে মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ির বাসিন্দা সহরব আলীর দুই স্ত্রী। কাকতালীয়ভাবে দুজনেরই নাম আনোয়ারা খাতুন। প্রথমে দুই স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করলেও কিছুদিনের মধ্যে শুরু হয়ে যায় অশান্তি। অভিযোগ, অশান্তির মাঝেই বড় বউকে পরিত্যাগ করে ছোট বউকে নিয়ে আলাদা সংসার পাতেন সহরব। বর্তমানে স্বামী পরিত্যক্তা বড় আনোয়ারা খাতুন সবজি বিক্রি করে কোনওমতে সংসার চালাচ্ছেন।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, সব ঠিক থাকলেও আনোয়ারার চিন্তা বাড়তে থাকে এসআইআর শুরু হতেই। ২০০২ সালের তালিকায় নাম নেই সহরবের প্রথম স্ত্রী আনোয়ারা খাতুনের। ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের সময় ‘আন-ম্যাপিং’ এর কারণে তাঁকে ‘লজিক্যাল হিয়ারিং’ বা শুনানির জন্য তলব করা হয়। কিন্তু তাঁর কাছে জমি বা জন্মের শংসাপত্রের মতো কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি নেই। এই আবহে শুনানির ডাক আসতেই দুশ্চিন্তা ক্রমেই বাড়তে থাকে কাঁর। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কাগজ না দেখাতে পারলে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, এই ভয়েই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
বৃহস্পতিবার ভাউলাগঞ্জ বাজারে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন আনোয়ারা। স্থানীয় বাসিন্দারাই দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। ভাইপো নাজিরুল হক বলছেন, “ওনার স্বামীর দু’টো বিয়ে। কিন্তু দুই স্ত্রীর একই নাম। এখন এনার নামে নোটিস আসতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিডিও অফিসে আসার সময়েই এই কাণ্ড।”