Jalpaiguri: অন্যান্য সব বিষধরের থেকে আলাদা! উদ্ধার বিরল ‘রেড কোরাল কুকরি’, এলাকায় জারি কড়া নজরদারি
Jalpaiguri Snake Recover: এই সাপ সম্পূর্ণ নির্বিষ প্রকৃতির হয়। এরা মূলত মাটির ভেতরে ঢুকে থাকতে ভালোবাসে। তবে বর্ষাকালে মাটির নিচের গর্তে জল জমে গেলে এরা বাধ্য হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এদের পছন্দের তালিকায় সাধারণত ব্যাঙ থাকে না। এরা প্রধানত কেঁচো বা বিভিন্ন পোকার লার্ভা জাতীয় খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। এই প্রজাতির সাপ সাধারণত লম্বায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।

জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির মোহিত নগর সংলগ্ন এলাকায় ফের উদ্ধার হল অতি বিরল ও নির্বিষ প্রজাতির ‘রেড কোরাল কুকরি’ (Red Coral Kukri) সাপ। মোহিত নগর এলাকায় এই সাপটি বারবার উদ্ধার হওয়ায় ওই অঞ্চলে বনদপ্তরের লাগাতার ও কড়া নজরদারির অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।
কীভাবে উদ্ধার?
জানা গিয়েছে, রবিবার জলপাইগুড়ি অরবিন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের মোহিত নগর এলাকার এক বাসিন্দার বাড়ির গাছের সঙ্গে সাপটিকে পেঁচিয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরীকে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাপটিকে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে উপযুক্ত ও নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত ১৫ বছরে ২৫টি রেড কোরাল কুকরি উদ্ধার
জলপাইগুড়ির পরিবেশকর্মী মহল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত ১৫ বছরের মধ্যে অন্তত ২৫টি রেড কোরাল কুকরি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সাপই জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন মোহিত নগর, বিলপাড়া, বেলাকোবা এবং শিরিষতলা এলাকা থেকেই উদ্ধার হয়েছে।
সাপটির খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থান কেমন?
পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই সাপের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
এই সাপ সম্পূর্ণ নির্বিষ প্রকৃতির হয়। এরা মূলত মাটির ভেতরে ঢুকে থাকতে ভালোবাসে। তবে বর্ষাকালে মাটির নিচের গর্তে জল জমে গেলে এরা বাধ্য হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এদের পছন্দের তালিকায় সাধারণত ব্যাঙ থাকে না। এরা প্রধানত কেঁচো বা বিভিন্ন পোকার লার্ভা জাতীয় খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। এই প্রজাতির সাপ সাধারণত লম্বায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।
পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী গত ৪০ বছর ধরে সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারের কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁর কেরিয়ারে তিনি প্রায় ২৫টি রেড কোরাল কুকরি সাপ উদ্ধার করেছেন, যার একটি বড় অংশই মোহিত নগর সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে। এই দুর্লভ সাপটি সম্পর্কে তাঁর কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তিনি বনদপ্তরকে প্রদান করতে চান বলে জানিয়েছেন।
