
রাজগঞ্জ: এবার কি তাহলে বাংলাদেশে যেতে হবে? জীবন সায়াহ্নে এসে এই আতঙ্কই এখন কুরে খাচ্ছে ৯০ বছরের বৃদ্ধকে। রাজগঞ্জের এই বৃদ্ধকে নিয়ে এখন শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে। জীবিত রয়েছেন, অথচ ভোটার তালিকায় তিনি মৃত। এই চরম প্রশাসনিক বিভ্রাটে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে নব্বইয়োর্ধ্ব সফিজুদ্দিন মহম্মদের। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তাঁকে ভাবতে হচ্ছে, ভারতে কি আর ঠাঁই হবে না তাঁর!
জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের সুকানি অঞ্চলের সুভাষপল্লী এলাকার বাসিন্দা সফিজুদ্দিন মহম্মদ জন্মসূত্রেই এই এলাকারই মানুষ। দশকের পর দশক ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে এসেছেন তিনি। প্রবীণ এই নাগরিকের ২০০২ সালের তালিকাতেও নাম ছিল। ২১-এর বিধানসভা ভোটেও ভোট দিয়েছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোট দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। পরে জানতে পারেন তাঁকে ভোটার তালিকায় মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাই সেবার তিনি আর ভোট দিতে পারেননি।
অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলাকার বিএলও-কে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকী বিডিও অফিসে গিয়েও কোনও সমাধান মেলেনি। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া চললেও তাঁর নামে কোনও এনুমারেশন ফর্ম আসেনি। তাই তিনি ফর্ম ফিল আপ করতেও পারেননি, কারণ তিনি ‘মৃত’।
এই বৃদ্ধকে ঘিরেই রাজগঞ্জ বিধানসভায় রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। ছেলে আমজাদ আলির অভিযোগ, ভোটার তালিকায় তাঁর বাবার নাম তোলার জন্য গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন, কিন্তু নাম তুলতে পারেননি। রাজগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল সমর্থকদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। তার জেরেই সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকরা ভুক্তভোগী হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
বিজেপির কিষান মোর্চার জেলা সভাপতি নকুল দাস বলেন, “ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে বিএলও এবং প্রশাসনের। বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূল নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই বিজেপির বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে।”