
তন্ময় নন্দীর রিপোর্ট
ঝাড়গ্রাম: ভোটের দামা বাজতেই দলবদলও শুরু হয়ে গিয়েছে পুরোদমে। এবার জঙ্গলমহলের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বড়সড় ধাক্কা খেল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বেলিয়াবেড়া অঞ্চলে প্রায় ১০০টি সংখ্যালঘু পরিবার তৃণমূল ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করল। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ঘটনা স্বভাবতই জেলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়।
বিজেপির গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রের প্রার্থী রাজেশ মাহাতো এদিন সকাল থেকেই নিজের এলাকায় প্রচার চালাচ্ছিলেন। প্রচার চলাকালীন তিনি আচমকা খবর পান, বেলিয়াবেড়া গ্রামের বহু সংখ্যালঘু পরিবার তৃণমূলে বীতশ্রদ্ধ হয়ে বিজেপিতে যোগ দিতে আগ্রহী। খবর পেয়েই কালক্ষেপ না করে দ্রুত ওই গ্রামে পৌঁছে যান তিনি। নিজ হাতে ওই পরিবারগুলির হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে তাঁদের বরণ করে নেন।
ভোটের আগে আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি। তাই প্রচারের শেষ লগ্নে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না বিজেপি প্রার্থী। নিজেই গাড়ি চালিয়ে গ্রামের অলিগলি ঘুরে জনসংযোগ সারছেন রাজেশ মাহাতো। এদিনের এই গণ-যোগদানে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত পদ্ম শিবির। এলাকার বিজেপি নেতারা বলছেন, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। বিজেপির উন্নয়নমূলক চিন্তাধারার উপর ভরসা রাখছেন। এই যোগদান গোপীবল্লভপুরে বিজেপির হাতকে সামগ্রিকভাবে আরও শক্ত করল বলে মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।
তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে এমন ভাঙন শাসকদলের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তাঁরা কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি। তা নিয়েও যদিও চর্চা চলছে। এদিকে প্রতিবারই জঙ্গলমহলের ভোট রাজ্যের রাজনীতির অভিমুখ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। তাহলে প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে বেলিয়াবেড়ার এই দলবদল কি কোনও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? প্রশ্ন ঘুরছে, ১০০টি সংখ্যালঘু পরিবারের শাসক দল ত্যাগের প্রভাব ইভিএম-এ কতটা পড়বে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।