Jhargram News: ঘোরে না ওদের ভাগ্য, শবর পরিবারের দ্রারিদ্রতা চোখে জল আনবে
গ্রামে ঢোকার রাস্তা নেই, নেই পানীয় জলের একটিও কল। আজও পাতকুয়োর নোংরা জলই শতাধিক লোধা-শবর পরিবারের একমাত্র ভরসা। পেটের জ্বালা আর চরম অভাবের সুযোগে গ্রামে থাবা বসিয়েছে দেশি মদের নেশা। ফলে যা হওয়ার তাই, অপুষ্টি আর রোগভোগই যেন নিত্যসঙ্গী এখানকার প্রতিটি ঘরের।

ঝাড়গ্রাম: ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টায়, বছর ঘোরে, কেটে যায় দশকের পর দশক। কিন্তু বদলায় না ওঁদের ভাগ্য। আজও পেটের খিদে মেটাতে কারও সম্বল ভিক্ষার ঝুলি, তো কারও ভরসা বনের কাঠ কুড়িয়ে বিক্রি করা সামান্য কটা টাকা। রেশনের নামমাত্র চালে পেট ভরে না। উন্নয়নের হাজারো ঢাকঢোলের মাঝেও চরম অনুন্নয়নের অন্ধকারেই দিন কাটছে ঝাড়গ্রাম ব্লকের রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুয়াবাসা গ্রামের শবর পাড়ার।
গ্রামে ঢোকার রাস্তা নেই, নেই পানীয় জলের একটিও কল। আজও পাতকুয়োর নোংরা জলই শতাধিক লোধা-শবর পরিবারের একমাত্র ভরসা। পেটের জ্বালা আর চরম অভাবের সুযোগে গ্রামে থাবা বসিয়েছে দেশি মদের নেশা। ফলে যা হওয়ার তাই, অপুষ্টি আর রোগভোগই যেন নিত্যসঙ্গী এখানকার প্রতিটি ঘরের।
সামনেই হাড়কাঁপানো শীত। অথচ মাথার উপর পাকা ছাদ তো দূর, অনেকের ভাগ্যে জোটেনি একটা আস্ত দেওয়ালও। একচিলতে জায়গায় ছেঁড়া কাপড় আর প্লাস্টিকের ত্রিপল গুঁজে কোনও মতে রাত কাটান বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের তীব্র ক্ষোভ, তৃণমূল জমানায় শুধু প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তবে মেলেনি কিছুই। প্রয়োজনীয় নথিপত্রের নেই বলে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা থেকেই বঞ্চিত রাখা হয়েছে এই পিছিয়ে পড়া জনজাতিকে।
তবে সম্প্রতি পাশের কালাঝরিয়া গ্রামে গিয়ে লোধা-শবরদের হাতে পুষ্টিকর খাবার তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর এমন সফর ঘিরে যখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা, ঠিক তখনই নতুন করে বুক বাঁধছে সুয়াবাসার শবর পাড়াও। ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী খাবার দিয়েছেন। সরকারি সব সুবিধা যাতে এরা সকলে পান সেটা দেখা হবে।
