
মালদহ: শিক্ষক দিবসে টিভি-৯ বাংলাকে বার বার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন ক্যানসার আক্রান্ত প্রধান শিক্ষক সুব্রত রায়। হাতজোড় করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও পরিবারকে দেখার কাতর আর্জি জানালেন। তৃণমূল (Trinamool Congress) নেতার ‘দাদাগিরি’-তে অতিষ্ঠ হয়ে একদিন আগেই স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখেছিলেন মোথাবাড়ির বিএম দূর্লভপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুব্রতবাবু। অভিযোগ, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সন্তোষ ঋষি জোর করে তাঁর বেতন বন্ধ করিয়েছেন। তাতেই শরীরে ক্যানসার নিয়ে বিনা চিকিৎসায় পড়ে থেকে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করেন মমতার কাছে। সেই খবর প্রকাশ করে টিভি নাইন বাংলা। তাতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
সূত্রের খবর, ক্যানসার আক্রান্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধ কেন করা হয়েছে, তার জবাব চেয়ে কড়া চিঠি দিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তিন দিনের মধ্যে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছে জবাব চেয়েছে পর্ষদ।
এদিন ইংরেজবাজারের রবীন্দ্রপল্লীর বাড়িতে কাঁদতে কাঁদতেই তিনি বলেন, “প্রথমেই আমি টিভি-৯ বাংলাকে অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার এই অবস্থাতেও আমার খোঁজ নিতে এসেছেন। আমার চিকিৎসা চলছে। কিন্তু, আমি এখন শেষ স্টেজে রয়েছি। এই অবস্থাতেও টিভি-৯ বাংলা আমার খোঁজ নেওয়ায় আমি তাঁদের অশেষ অশেষ ধন্যবাদ জানাই। আমার অবস্থার কথা আজ সহস্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য টিভি-৯ বাংলার কাছে আমি ঋণী হয়ে থাকব সারাজীবন। ওদের দৌলতে বোর্ড পর্যন্ত আমার অবস্থার কথা জানতে পেরেছে। আমাকে চিঠি পাঠিয়েছে। ফোনও করেছিল। সাহায্যের কথাও বলেছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছিলাম। যার মাধ্যমে আমি স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়েছিলাম।”
তাঁর চিকিৎসার ভার বইতে গিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। ছেলে পড়াশোনা করছে। কিন্তু, পড়াশোনার খরচ কোথা থেকে আসবে, কীভাবে চলবে সংসারের ঘানি তা ভেবেই অঝোরে কেঁদে চলেছেন সুব্রতবাবু। টিভি-৯ বাংলার ক্যামেরার সামনেই তাঁর অবর্তমানে তাঁর পরিবারের খেয়াল যাতে সরকার রাখে সেই আর্জিও জানান এদিন। বলেন, “আমার বেতন সেই এপ্রিল মাস থেকে বন্ধ আছে। প্রাথমিক কিছু চিকিৎসা করাতে পেরেছিলাম। তারপর থেকে তো আমার চিকিৎসা বন্ধই বলা চলে। কারণ আমার কাছে আর একটাও পয়সা নেই। আমার পরিবারের কী হবে সেটাই আমার এখন সবথেকে বড় চিন্তা। আমার একটা ছোট ছেলে আছে। সে এখন পড়াশোনা করছে। তারজন্য টাকা পাঠাতে হয়। আমি পাঠাতে পারব না। আমার পরিবার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। কীভাবে ওদের রক্ষা করব সেটাই ভাবছি। আজ শিক্ষক দিবসে আমি একা। আমি তো বেশিদিন হয়তো আর থাকব না। তাই আমার পরিবারকে যাতে মুখ্যমন্ত্রী দেখেন এবং আমার উপরে সুবিচার করেন সেটা আমি চাই।”