
মালদহ : কালিয়াচক কাণ্ডে আদালতে রিপোর্ট জমা দিল পুলিশ। আর তাতেই উঠে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, বিডিও অফিস থেকে বেরোনোর পরই তাঁদের কনভয়ে হামলা চালানো হয়। শুধুমাত্র বিচারকের কনভয়েই নয়, হামলা চালানো হয়েছে পুলিশ ও আধাসেনার ওপরেও। পুলিশের রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার কালিয়াচকের ঘটনায় আদালত রিপোর্ট জমা দিয়েছে মোথাবাড়ি থানার পুলিশ। ওই রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মী ও যে সব জুডিশিয়ল অফিসাররা ছিলেন, তাঁদের উপর পরিকল্পিতভাবেই হামলা করা হয়েছিল। আর তাঁদের যখন উদ্ধার করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন, তখন তাঁদের উপরও হামলা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, যখন বিচারকদের কনভয় ওই বিডিও অফিস থেকে বেরোয়, ঠিক সেইসময় সিআরপিএফ জওয়ানের গাড়ি লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। তাঁদের গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। ঘটনায় একজন চালক জখম হয়েছেন। সিআরপিএফের সাব ইন্সপেক্টরও জখম হয়েছেন। এছাড়া, একজন অধস্তন কর্মীও জখম হয়েছেন। সব মিলিয়ে পুলিশের রিপোর্টে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই থেকে তিনজনের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বিডিও অফিসের সামনে জমায়েতের উস্কানির জেরেই হামলা চালানো হয়েছে। ১ এপ্রিল সন্ধেয় প্রায় ১০০ অজ্ঞাত পরিচয়ের জমায়েত হয় বিডিও অফিসের সামনে। ব্যারিকেড করে কনভয়ে হামলা ও ইটবৃষ্টি করা হয়। কিন্তু, ভোটের আগে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও কোথা থেকে ওই ১০০ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা এলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়ে সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন,”রাজ্য়ের যা পরিস্থিতি, সেখানে সুপ্রিম কোর্টে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই সঠিক। এনআইএ তদন্ত হচ্ছে। আজ উস্কানিদাতাদের পাণ্ডা গ্রেফতার হয়েছে। যা রিপোর্ট তাতে বোঝা যাচ্ছে এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা নেই। নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর হাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। তবেই পশ্চিমবঙ্গে শান্তিতে ভোট হবে।”
কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত বলেন,”বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন। নিরপেক্ষতা তাঁদের কাছ থেকে কাম্য। সেক্ষেত্রে যাঁরা বৈধ ভোটার, যাঁদের সঠিক কাগজপত্র রয়েছে, তাঁরা তো বিচার পাবেনই। তাহলে এই যে বিচারকদের সন্ত্রস্ত করা, তাঁদের উপর আক্রমণ করা এগুলো একমাত্র আসতে পারে যাঁদের কাছে সঠিক কাগজ নেই। তাঁরাই বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। আশা করব সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলি এই সমস্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানুষদের বিরত করবেন।”