Drug Money Dispute: একেবারে ঘাড় থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে মাথা, বাড়ি থেকে ডেকে এনে ‘খুন’, তপ্ত কালিয়াচক
Malda Drug Money Dispute: দুই ভাইয়ের চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা আশরাফুল শেখকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সাদিকুলের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জালুয়াবাথাল গ্ৰামে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

মালদহ: লাইট পোস্টের গোড়ায় ঠেকনা দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে। রক্তে ভেসে যাচ্ছে এলাকা। একজনের ঘাড় থেকে মাথা অর্ধেক নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। অপর জনেরও প্রায় তাই। একজন তখনও ওই অবস্থাতেই শ্বাস ফেলছে। মাদক পাচারের বেআইনি টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে ভয়ঙ্কর ঘটনা বাড়ি থেকে ডেকে এনে দুই ভাইকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানোর অভিযোগ উঠল প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে এক ভাইয়ের, অন্যজন বর্তমানে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার কালিয়াচক থানার জালুয়াবাথাল গ্ৰামে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম আশরাফুল শেখ। গুরুতর জখম ছোট ভাইয়ের নাম সাদিকুল শেখ। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রতিবেশী পিলু শেখের বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত পিলু শেখ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ব্রাউন সুগারের কারবারের সঙ্গে যুক্ত। মাদক চক্রের বেআইনি টাকার ভাগাভাগি এবং লেনদেন নিয়ে আশরাফুল ও সাদিকুলের সঙ্গে তার বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অভিযোগ, আজ সকালে পিলু শেখ ও তার দলবল দুই ভাইকে ঘরের ভেতর থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাঁসুয়া ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দুষ্কৃতীরা।
দুই ভাইয়ের চিৎকার শুনে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে পালায়। রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা আশরাফুল শেখকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। সাদিকুলের অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জালুয়াবাথাল গ্ৰামে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কালিয়াচক থানার পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত পিলু শেখ ও তার ছেলেদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে।
মৃতের পরিবারের এক সদস্যের বক্তব্য, “টাকার লেনদেন নিয়ে কী একটা গন্ডগোল হয়েছিল। আজ সকালে ওরাই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এল আমার ছেলেদের। তারপর কোনও কথা নেই, সরাসরি হাঁসুয়া দিয়ে কোপাতে শুরু করল। আমার একটা ছেলে চলেই গেল, আর একটা ছেলেও হাসপাতালে ছটফট করছে। আমরা পিলু আর ওর ছেলেদের ফাঁসি চাই।”
প্রসঙ্গত, বারুইপুরের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ডিজিপি-র নেতৃত্বে গোটা রাজ্য জুড়ে মাদক বিরোধী অভিযান চলবে। রেইড চালাবে পুলিশ। এই মাদকের কারবারের জন্য রাজ্যে খুন, ধর্ষণের মতো অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে, এবার তা কড়া হাতে দমনে উদ্যোগী শুভেন্দু-সরকার। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার মধ্যেই এই ঘটনা।
