
মালদহ: বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বেড়েছিল। বিশেষ করে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কাঁটাতারহীন এলাকাগুলিতে। সেখানে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দাপট বেড়েছিল। এখন বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনে জামাতের দাপট বাড়তেই মালদহের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখন তাঁরা চাইছেন, কাঁটাতারহীন এলাকাগুলিতে ফেন্সিং করা হোক। এর জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে আবেদন জানালেন তাঁরা।
বাংলাদেশের নির্বাচনের পর থেকেই উদ্বেগ বাড়ছে মালদহে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নির্বাচনে জামাত-ই ইসলামি ৭৭ টি আসনে জয়লাভ করেছে। যার মধ্যে একটা বড় ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর ঠিক ওপারে। বিশেষ করে মালদহের ওপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সবকটি আসনেই জামাত সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্কবার্তা জারি করেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে কট্টরপন্থী শক্তির উত্থানের ফলে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় নাশকতা ও মৌলবাদী কার্যকলাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে জামাত কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তাই, মালদহ সীমান্তে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নজরদারি বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর করা হয়েছে।
মালদহ জেলার ১৭২ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার কাঁটাতার নেই। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য বিবাদে কাঁটাতার দেওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। এর মধ্যে হবিবপুর ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বৈদ্যপুর গ্রামপঞ্চায়েতের ডাল্লা, চড়নতলা, ভূতডাঙা,,পার্বতীডাঙা সহ একাধিক গ্রামের গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত। আর শুধু বৈদ্যপুর গ্রাম পঞ্চায়েতই নয়। আতঙ্কিত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বিভিন্ন ব্লক যেমন হবিবপুর, বৈষ্ণবনগর, ওল্ড মালদার বহু গ্রামবাসী। অনেকেরই অভিযোগ, ছদ্মবেশে কৃষক সেজে কাঁটাতারহীন এলাকা দিয়ে জামাতরা ঢুকে পড়ছে। বিভিন্ন জঙ্গি হামলা বা অন্যরকম হামলা চালানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা। গত একমাসের মধ্যে হবিবপুর থেকেই ১৫ জন বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ রাজু মণ্ডল ওরফে সুজিত চৌধুরী নামে এক দালালকে গ্রেফতার করে ৫ জন বাংলাদেশি সহ। এই রাজু টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশিদের পারাপার করিয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা সুখলাল বিশ্বাস, সুনীল রায়দের বক্তব্য, “আমরা যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারি, তার জন্য সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার বসানো হোক। আমরা জমি দিতে প্রস্তুত।”
এদিকে, জামাত আতঙ্কের মধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর বেড়েছে। বিজেপির অভিযোগ, বাংলাদেশি জামাতদের দিয়ে অশান্তির চেষ্টা করছে তৃণমূল। ভোটের কাজেও তাঁদের ব্যবহার করার উদ্দেশ্য রয়েছে। যদিও বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল।