
মালদহ: রাতের অন্ধকারে তৃণমূলের কিছু নেতা বিজেপির সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন। কংগ্রেসে ফিরে এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল বিজেপি সেটিং আছে। আমি যখন তৃণমূলে ছিলাম, তখনও দেখেছি টাকার লেনদেন আর ক্ষমতার জন্যে কিছু নেতা এসব করেন।” উল্লেখ্য, এদিনই আবার প্রায় একই ধরনের বিস্ফোরক দাবি করেন বিজেপির রাজ্য নেতা তথা উত্তর মালদহের সাংসদ খগেন মুর্মু। তাঁর বক্তব্য, মালদহের তৃণমূলের এক বিধায়ক, জেলার দুই সহ সভাপতি, তিন সাধারণ সম্পাদক এবং তৃণমূলের আরও আট জন নেতা গোপনে যোগাযোগ করছেন বিজেপির সঙ্গে। গোপন বৈঠকও করেছেন তাঁরা।
তাঁর দাবি, এই তালিকায় মালদহ জেলা পরিষদ সদস্য এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরাও রয়েছেন। তাঁর রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন বলে দাবি খগেনের। যদিও তাঁদের নাম বলতে চাননি তিনি। খগেনের আশঙ্কা, “খুব গোপনে তাঁরা যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের নাম প্রকাশ করলে তৃণমূল তাঁদের ক্ষতি করে দিতে পারে।” একই সাথে তাঁর বক্তব্য, তবে যোগাযোগ যাঁরাই করুক, তৃণমূলের পচে যাওয়াদের বিজেপিতে স্থান নেই। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের নেওয়া হবে না।
অন্যদিকে তৃণমূলের মালদহ জেলার চেয়ারপার্সন চৈতালি সরকারও এই গোপন যোগাযোগের কথা উড়িয়ে দেননি। তাঁর কথায়, দলে এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যাঁরা দলের মধ্যে থাকে শুধু টাকা আর ক্ষমতার জন্যে। সেই সব নেতারাই বিজেপির সাথে যোগাযোগ করছেন। উল্লেখ্য, তৃণমূলের নতুন কমিটি গঠনের পরেই মালদহ জেলা তৃণমূলের অন্দরে নেতাদের মধ্যে সংঘাত চরমে। সম্পাদকের পদ বা অন্য পদ না পেয়ে ক্ষুব্ধ বহু নেতা।