
মালদহ: স্কুলের ঘরে বন্ধ করে লোহার রড দিয়ে শিক্ষককে পেটানোর অভিযোগ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ভেঙে দেওয়া হয় হাত। মারধরে আরও এক শিক্ষকেরও মাথা ফেটেছে বলে অভিযোগ। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রাক্তন টিআইসিকে সরিয়ে নতুন টিআইসিকে দায়িত্ব দেওয়া থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গিয়েছে। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের মশালদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের তালগাছি সিনিয়ার মাদ্রাসায় ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাঠগড়ায় প্রাক্তন টিআইসি ও এলাকার বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।
মারধর করা হয়েছে টিআইসি মহম্মদ হেবজুর রহমান ও সহকারি শিক্ষক আবজাল হোসেনকে। অভিযোগ উঠেছে, মাদ্রাসার প্রাক্তন টিআইসি মহম্মদ আবুজার ও হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি মনিরুল ইসলামের দাদা আনারুল আলম-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে। আহতদের প্রথম মশালদহ বাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার তাঁদের চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মিড ডে মিলের হিসাব ও মাদ্রাসার অন্যান্য ফান্ডের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগে গত ১৩ ডিসেম্বর আবুজারকে সরিয়ে নতুন টিআইসি করা হয় হেবজুরকে। স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের সর্ব সম্মতিক্রমে তাঁকে টিআইসির দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ, প্রাক্তন টিআইসি সেটা মানতে পারেন নি। তিনি শাসকদলের সমর্থক।
এদিন প্রাক্তন টিআইসি শাসকদলের দলবল ডেকে নিয়ে নতুন টিআইসির উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। অফিস রুম থেকে তাঁকে টেনে হিঁচড়ে বের করে একটি ক্লাসরুমে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁর দুই হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, জোর করে মাদ্রাসার খালি লেটার প্যাডে সই করিয়ে মোবাইলে ভিডিয়ো রেকর্ডিং করে স্বীকারোক্তি করান, যে তিনি স্বেচ্ছায় টিআইসি পদ ছেড়ে দিতে রাজি রয়েছেন। সহকারি শিক্ষক আবজাল তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁকেও বেধড়ক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এই নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
এই নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আমরা স্তম্ভিত হয়ে যাচ্ছি। একজন শিক্ষক সমাজের স্তম্ভ। সেই শিক্ষককে স্কুলের ভিতর ক্লাসরুমে আটকে লোহার রড দিয়ে মারা, কিছু বলার ভাষা নেই। অবিলম্বে দোষীকে গ্রেফতার করতে হবে। জামিন অযোগ্য ধারা দেওয়া উচিত।”
তৃণমূল মুখপাত্র তন্ময় ঘোষের বক্তব্য, “অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। যেই করে থাকুন, তাঁর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিতভাবে তাঁকে গ্রেফতার করুক।”