Murshidabad School Violence: স্কুলের ভিতরে শিক্ষিকার নাকে সজোরে ঘুষি, অভিযুক্ত তৃণমূলের শিক্ষক নেতা
Murshidabad School Teacher Assault: অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পার্শ্বশিক্ষক বলেন, "এর আগেও আমাকে মারতে এসেছিলেন। আজকেও পায়ের জুতো খুলে মারতে আসেন। আমি ধাক্কা দিই। তখন চেয়ার তুলে আঘাত করেন। আমি প্রতিরোধ করতে গেলে আমার চশমা, মোবাইল ভেঙে যায়। সেইসময় কীভাবে তাঁর নাকে লেগেছে, আমি জানি না।"

মুর্শিদাবাদ: স্কুলের ভিতরে শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠল প্যারা টিচারের বিরুদ্ধে। শিক্ষিকার নাক ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের ওই নেতার বিরুদ্ধে। রক্তাক্ত অবস্থায় শিক্ষিকাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়ার। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিহরপাড়া ব্লকের খিদিরপুর নতুনপাড়া গ্রামের ৪৮ নম্বর রেজাউল করিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক দিবসের প্রস্তুতি বৈঠক চলছিল। সেই সময় স্কুলের শিক্ষিকা কাবিরা সুলতানার সঙ্গে পার্শ্বশিক্ষক বাবলু শেখের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা পার্শ্বশিক্ষক বাবলু শেখ ওই শিক্ষিকাকে মারধর করেন। শিক্ষিকার নাক ফেটে রক্তপাত শুরু হয় বলেও অভিযোগ। পরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে বহড়ান প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষিকা কাবিরা সুলতানা।
কী বললেন আক্রান্ত শিক্ষিকা?
আক্রান্ত শিক্ষিকা বলেন, “শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানের জন্য প্রধান শিক্ষক আমায় দায়িত্ব দিয়েছেন। কী করা যায়, তা নিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করতে বলেন। সেইমতো পড়ুয়াদের জানিয়েছিলাম, তারা কী করতে চায় জানাতে। জনগণনার কাজে আমি ব্যস্ত থাকায় পড়ুয়ারা স্কুলের অন্য এক ম্যাডামকে জানায় তারা কী করতে চায়। তখনও ওই ম্যাডাম তাদের না করে দেয়। আজ আমি জনগণনা করে স্কুলে ঢোকার পর পড়ুয়ারা আমায় সেটা জানায়। আমি তখন প্রধান শিক্ষকের কাছে বিষয়টা জানাতে যাই। সেখানেই ছিলেন ওই শিক্ষক। আমি প্রধান শিক্ষককে জানানোর সময় উনি আমায় অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। আমি প্রতিবাদ করলে নাকে জোরে ঘুষি মারেন। বাচ্চারা আমাকে ভালোবাসে। এটাই আমার অপরাধ।”
কী বলছেন অভিযুক্ত পার্শ্বশিক্ষক?
শিক্ষিকাকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন পার্শ্বশিক্ষক বাবলু শেখ। তাঁর দাবি, ওই শিক্ষিকাই তাঁকে মারধর করেছেন। তাঁর কথায়, “ঘটনাটি পুরোপুরি মিথ্যা। উনি স্কুলে টিআইসি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। সেইসময় মিড ডে মিলে তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এই নিয়ে হিসেব চাইতে এলে অপদস্থ করেন। সেইসময় উনি ভেবেছিলেন, আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে ইন্ধন জুগিয়েছি। সেই রাগ ছিল। এর আগেও আমাকে মারতে এসেছিলেন। আজকেও পায়ের জুতো খুলে মারতে আসেন। আমি ধাক্কা দিই। তখন চেয়ার তুলে আঘাত করেন। আমি প্রতিরোধ করতে গেলে আমার চশমা, মোবাইল ভেঙে যায়। সেইসময় কীভাবে তাঁর নাকে লেগেছে, আমি জানি না।”
এদিকে, স্কুলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, “একটি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।” কিন্তু, স্কুলের মধ্যে এই মারধরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
