
সাগরদিঘি: রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে বছর তিনেক আগে উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে জিতেছিলেন তিনি। তিনমাসের মধ্যেই দল বদলে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। আর আজ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগে বিস্ফোরক সাগরদিঘির বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস। নিজের মুখেই বললেন, বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। রাজনীতির ময়দানে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে নিজের গুরু বলেও স্বীকার করলেন।
ঠিক কী বললেন বায়রন?
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বলেন, “আমি স্বার্থপর। আমি বিশ্বাসঘাতকতা করেছি। আমি বলব না যে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি। কংগ্রেস থেকে টিকিট পেয়েছিলাম। আমার হাতেখড়ি অধীররঞ্জন চৌধুরীর হাতে। তাঁকে সারাজীবন মনে রাখব। উনি আমার গুরুদেব। ভগবানের পরে অধীর চৌধুরীর স্থান। দাদা বলে শ্রদ্ধা করি। উনি বড় হয়ে ছোট ভাইকে কিছু বলতে পারেন। কিন্তু আমার দুঃখ নেই।”
এবারের নির্বাচনে সাগরদিঘিতে নিজের জয়ের ব্যাপারে বায়রন আত্মবিশ্বাসী হলেও বলছেন, “সবাই জয়ী হতে চায়। সবাই আশা নিয়ে নামে। কিন্তু, সামাজিক পরিষেবা দিতে হবে। আমার চেয়ে যদি কেউ ভালো পরিষেবা দিতে পারেন, তবে তাঁকে জয়ী করুন।”
বায়রন বিশ্বাস বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে স্বীকার করার পর খোঁচা দিলেন তাঁর ‘গুরু’ অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমার তো কিছু আর বলার নেই। নিজেই স্বীকার করছে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নিজেই যখন নিজেকে বিশ্বাসঘাতক বলে, সেই বিশ্বাসঘাতকের সঙ্গে কীরকম ব্যবহার করা উচিত, সাধারণ মানুষ ঠিক করবে। আমি এইটুকু বলতে পারি প্রার্থী হিসেবে সাগরদিঘিতে মনোজ চক্রবর্তীর তুলনা হয় না। এইটুকু বলতে পারি।”
২০২৩ সালে সাগরদিঘিতে উপনির্বাচনে কী হয়েছিল?
একুশের নির্বাচনে সাগরদিঘিতে জিতেছিলেন তৃণমূলের সুব্রত সাহা। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি মারা যান। তার জেরে এই আসনে উপনির্বাচন হয়। আর সেই উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বায়রন। জয়ী হন। তাঁর এই জয়ের পর বাম-কংগ্রেসের সাগরদিঘি মডেল নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে। কিন্তু, মাস তিনেক পরই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে শাসকদলে যোগ দেন বায়রন। তাঁর কংগ্রেস ছাড়া নিয়ে বায়রন নিজেই এবার স্বীকার করলেন, তিনি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এবারের নির্বাচনে সাগরদিঘিতে কী ফল হয়, সেটাই এখন দেখার।