
বহরমপুর: বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তেই রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত শাসক-বিরোধী সব রাজনৈতিক দলই। একদিকে যখন শাসক দল তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপি প্রচারে ঝড় তুলছে, তখন নিজেদের শক্ত ঘাঁটি মুর্শিদাবাদ রক্ষায় কোমর বেঁধে নামছে জাতীয় কংগ্রেস। আগামী ১৪ এপ্রিল, মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সামশেরগঞ্জে একটি বিশাল জনসভা করতে আসছেন।
রাহুলের এই সফরকে সফল করতে শনিবার বিকেলে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠকও হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক হেভিওয়েট নেতা। ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। ছিলেন এআইসিসি প্রদেশ পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মীর। ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পর্যবেক্ষক তথা এআইসিসি নেতা রাজেশ ঠাকুর। ছিলেন বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতা তথা এবারের বহরমপুরের প্রার্থী অধীর চৌধুরী।
বৈঠক শেষে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জানান, মুর্শিদাবাদের মানুষের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে সামশেরগঞ্জকেই রাহুল গান্ধীর প্রথম জনসভার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ভোটের মুখে দলীয় কর্মীদের মধ্যে উন্মাদনা বাড়াতে রাহুলের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে হাত শিবিরের নেতারা।
শুধু রাহুল গান্ধীই নন, ১৮ তারিখ থেকে কংগ্রেসের ভোট প্রচারে দেখা যাবে চাঁদের হাট। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলায় দিল্লির নেতাদের কার্যত লাইন পড়ে যাবে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে ১৮ এপ্রিল থেকে ধারাবাহিকভাবে প্রচারে নামবেন কংগ্রেসের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। বাংলার ভোটারদের মন জয় করতে আসছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আসবেন এআইসিসি সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। এছাড়াও আসবেন ইমরান প্রতাপগারীও।
মুর্শিদাবাদ চিরকালই কংগ্রেসের শক্ত গড় হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সেখানে জমি ফিরে পাওয়া কংগ্রেসের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এখন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতো তারকা প্রচারকদের এনে কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মনে নতুন করে অক্সিজেন দিতে চাইছে হাই-কমান্ড। সামশেরগঞ্জের সভা থেকেই রাহুল গান্ধী রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। এদিকে বিগত কয়েকদিনে বাংলায় বিজেপি প্রচারে ঝড় তুলতে দফায় দফায় এসেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের মতো নেতারা।