Nadia: প্রেমিককে ভিডিয়ো কল করে গলায় দড়ি তরুণীর, সকালে দরজা ভেঙে থ পরিবার
College girl commits suicide: প্রিয়ার ভাই প্রেম দাস বলেন, "দিদি যখন গলায় দড়ি দিয়েছিল, তখন বিছানায় পড়েছিল তার মোবাইল। এবং মোবাইলটা তার গলায় দড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত দিদির প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিয়ো কল হয়।"

নদিয়া: সকালে রুমের দরজা খোলেননি তরুণী। বাড়ির লোক ডাকাডাকি করেও সাড়া পাননি। শেষপর্যন্ত দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেই থ হয়ে গেলেন পরিবারের লোকজন। রুমের ভিতর গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছেন তরুণী। ঘটনাটি নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ এলাকার। মৃতার নাম প্রিয়া দাস। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, প্রেমিককে ভিডিয়ো কল করতে গলায় দড়ি দেন প্রিয়া। এর ভিডিয়ো ফোনে রয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
প্রিয়া দাস কল্যাণী আইটিআই কলেজে পড়তেন। জানা গিয়েছে, তাঁর প্রেমিকের বাড়ি কৃষ্ণগঞ্জেই। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিয়ার প্রেমিক বাইরে কাজে গিয়েছেন। গতকাল রাতে কী এমন ঘটনা ঘটল যে প্রিয়া এমন একটা সিদ্ধান্ত নিলেন? প্রশ্নের উত্তরে প্রিয়ার বাবা রাজু দাস বলেন, “সকালে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখি মেয়ের ঝুলন্ত দেহ। পাশে পড়ে রয়েছে মোবাইল।” বাবার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাড়াতাড়ি প্রিয়াকে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রিয়ার ভাই প্রেম দাস বলেন, “দিদি যখন গলায় দড়ি দিয়েছিল, তখন বিছানায় পড়েছিল তার মোবাইল। এবং মোবাইলটা তার গলায় দড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত দিদির প্রেমিকার সঙ্গে ভিডিয়ো কল হয়।” প্রেমের আরও অভিযোগ, “আমার দিদির সঙ্গে বেশ কিছুদিন আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় ওই যুবকের। আর এই সম্পর্কের মধ্যে কোনও একটা ছবি দেখিয়ে দিদির প্রেমিক তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিল। যার জন্য দিদি বাধ্য হয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে।”
খবর পেয়ে কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছায় কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ। কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে কৃষ্ণগঞ্জ থানায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। মেয়ের ভিডিয়ো কলের অভিযোগ তুলে রাজু দাস জানান, তাঁরা কৃষ্ণগঞ্জ থানায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন। অভিযুক্তকে যাতে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়, সেই দাবি তিনি জানান।
