Nadia Pension Records Error: জীবিত থেকেও মৃত! এক বছর ধরে বন্ধ বার্ধক্য ভাতা! তুঙ্গে চর্চা
Elderly Couple Suffer After Being Marked Dead in Government Records in Nadia: টাকার অভাবে ওষুধ কেনা তো দূরস্থান, দু’বেলা দুমুঠো অন্ন জোগানোই এখন তাঁদের কাছে বিলাসিতা। কোনওদিন গাছপাতা কুড়িয়ে বা রেশনের চাল সেদ্ধ করেই আধপেটা খেয়ে জীবন কাটছে তাঁদের। মাটির ভাঙা কুঠিরে বর্ষার রাতে জল পড়ে, কিন্তু মেরামত করার সামর্থ্য নেই।

নদিয়া: সরকারি নথির এক চরম উদাসীনতায় জীবিত থেকেও মৃত হয়ে রয়েছেন নদিয়ার এক বৃদ্ধ দম্পতি। গত এক বছর ধরে বন্ধ তাঁদের একমাত্র সম্বল বার্ধক্য ভাতা। বর্তমানে অসুস্থতা আর চরম অনাহারে ভাঙা ঘরে দিন কাটছে তাঁদের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাস গ্রাম পঞ্চায়েতের পার চন্দননগরের ৮ নম্বর বুথ এলাকায়।
ঠিক কী ঘটেছে?
৯৪ বছর বয়সী পাঁচুগোপাল তরফদার ও তাঁর স্ত্রী পার্বতী। পাঁচু একসময় ভ্যান-রিকশা চালাতেন এবং এলাকায় বাউল শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বার্ধক্যজনিত কারণে এখন আর শরীর চলে না। কিছুদিন আগেই তাঁদের একমাত্র সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। অভাবের সংসারে রেশনের চাল আর সরকারি বার্ধক্য ভাতাই ছিল বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকু। কিন্তু হঠাৎই সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন তাঁরা। বিডিও অফিসে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সরকারি নথিতে তাঁদের ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সরকারের এনএসএপি (NSAP) প্রকল্পের টাকা।
দুরবস্থার ছবি
টাকার অভাবে ওষুধ কেনা তো দূরস্থান, দু’বেলা দুমুঠো অন্ন জোগানোই এখন তাঁদের কাছে বিলাসিতা। কোনওদিন গাছপাতা কুড়িয়ে বা রেশনের চাল সেদ্ধ করেই আধপেটা খেয়ে জীবন কাটছে তাঁদের। মাটির ভাঙা কুঠিরে বর্ষার রাতে জল পড়ে, কিন্তু মেরামত করার সামর্থ্য নেই। পাঁচু অভিযোগ, তৃণমূল সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁর স্ত্রী পার্বতী আক্ষেপ করে বলেন, “স্বামীকে দু’বেলা খাওয়াতেও পারছি না, আর কতদিন এভাবে লড়াই করব জানি না।”
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। স্থানীয় তৃণমূল নেতা অশোক কুমার ঘোষ স্বীকার করেছেন যে দম্পতির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তিনি বলেন, “আমি নিজে পাঁচুকে বিডিও অফিসে নিয়ে গিয়ে আবেদন করিয়েছিলেন, তবুও কেন কাজ হয়নি তা নিয়ে আমি সত্যিই লজ্জিত।”
অন্যদিকে, বিজেপির বুথ সভাপতি শিবনাথ মুখোপাধ্যায় ও শিবনিবাস পঞ্চায়েতের বিজেপি উপপ্রধান বিকাশ দাসের অভিযোগ, “রাজ্য সরকার নতুন প্রকল্পের প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও প্রকৃত অভাবী মানুষের খবর রাখছে না। বারবার বিডিও অফিসে দরবার করলেও কোনো সুরাহা হয়নি।”
সরকারি লালফিতের ফাঁস ছিঁড়ে কবে নাগাদ নিজেদের ‘জীবিত’ প্রমাণ করে প্রাপ্য সম্মান ও ভাতা ফিরে পাবেন এই অসহায় দম্পতি? উত্তরের অপেক্ষায় দিন গুনছে পার চন্দননগর।
