
নদিয়া: এসআইআর (SIR) নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভের শেষ নেই। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চলছে ক্ষোভ-বিক্ষোভ। এই আবহের মধ্যেই এবার মৃত্যুর ঘটনা এল সামনে। স্ত্রীর নামে এসেছিল শুনানির নোটিস। তারপর থেকে এসআইআর আতঙ্কে ভুগছিলেন এক ব্যক্তি। এরপর তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হতেই তুমুল হইচই। অফিসারদের ভুলের কারণে এই হয়রানি হয়েছে। SIR আতঙ্কে মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার করিমপুরের হোগলবার থানা এলাকার কচুইডাঙা গ্রামে।
ওই ব্যক্তির নাম ফুজির খান (৫৪)। তিনি পেশায় গৃহশিক্ষক। তাঁর বিরুদ্ধেই আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠছে। জানা গিয়েছে, মৃতের স্ত্রী পারভিনা বিবির ২০০২ ভোটার তালিকায় নাম ছিল না। তারপর ফর্ম ফিলাপ করে তিনি জমা দেন। এরপর শুনানির জন্য তাঁর স্ত্রীকে ডেকে পাঠানো হয়। জানা গিয়েছে, পারভিনার পরিবারের ছয় ভাই বোন নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। আর সেই কারণে এসআইআর-এর নোটিস আসে।
এরপর বৃহস্পতিবার রাতে নিজের বাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন ফুজির। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। যেখানে লেখা, “আমার ভুলের সবাই সাজা পাবে এটা আমি কিছুতেই মানতে পারছি না। তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম।” পরিবারের বক্তব্য, ফুজির ও তাঁর স্ত্রীর শুনানির নোটিস এসেছিল ভুল-ভ্রান্তির জন্য। যদি, তাঁর স্ত্রীকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তখন কী হবে, কোথায় থাকবেন। সেই আতঙ্কে গতকাল রাতে নিজের বাড়িরতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতি হন তিনি। ভাইপো আহমেদ খান বলেন, “আমার কাকিমার নোটিস এসেছিল হেয়ারিংয়ের। তারপর থেকে আমার ছোট কাকা প্রচণ্ড সমস্যায় ভুগছিলেন। আমরা অনেক বুঝিয়ে বলেছিলাম কোনও সমস্যা হবে না। তবুও এই আতঙ্ক তো মাথা থেকে যাচ্ছে না। খালি বলত হয়ত জেল হবে, বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেব। শুধু মাত্র এসআইআর-এর আতঙ্কেই গলায় দড়ি দিয়েছেন।”